নিজের মাকে মারধর করে বাসা থেকে বের করে দেওয়ার পর মা ও ভাই-বোনের বিরুদ্ধেই আদালতে মামলা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে নেত্রকোনার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা প্রীতম সোহাগের বিরুদ্ধে।
রোববার (২৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নেত্রকোনা থেকে তার মা ও ভাই-বোন ফেসবুক লাইভে এসে এই অভিযোগগুলো করেন। ৫ আগস্টের পর থেকে নেত্রকোনায় তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে এলেও সম্প্রতি প্রত্যক্ষভাবে নিজের পরিবারের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় এলাকায় তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে।
বোন হেলেনা অভিযোগ করে বলেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার পর কিছুদিন তাদের থাকার ব্যবস্থা করলেও পরে নিয়মিত মারধর-নির্যাতন করে নিজের বাসা থেকে বের করে দেন সোহাগ। এমনকি চাচা ও চাচাতো ভাইদের ইন্ধন দিয়ে সবার সামনে তাদের ওপর হামলারও ব্যবস্থা করেন তিনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ওর পিছনে শ্রম দিতে দিতে আমার মা শেষ হয়ে গেছে, আমরা কখনো ভালো খাই নাই, ভালো পরি নাই ওরে ভার্সিটি পর্যন্ত নেওয়ার লাইগ্যা।’
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি আরও বলেন, ‘এতো বড় নেতা তার নিজের ভেতরেই তো মানবিকতা নাই, সে তার ঘর সামলাইতে পারে না, নিজের বোন, মা, ভাইকে চিনে না।’
সোহাগকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত পড়ানোর জন্য তাদেরকে অমানুষিক পরিশ্রম করতে হয়েছে জানিয়ে বোন হেলেনা বলেন, ‘আমাদের বাবা ডিসি অফিসে মাত্র আট হাজার টাকা বেতনে পিওনের কাজ করতেন। তার পক্ষে দুই ছেলের পড়াশোনার খরচ বহন করা সম্ভব ছিল না। তাই আমি আর মা না খেয়ে, রাতের পর রাত না ঘুমিয়ে, দিন-রাত পরিশ্রম করে সোহাগের পড়ালেখার খরচ জোগাড় করেছি। আজ সে সেই কৃতজ্ঞতাটুকুও রাখল না। সে একটা বেঈমান,আমি তার বিচারের দাবি জানাই।’
প্রীতম সোহাগের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি আপনাদের কাছে বিচার চাই। মানুষের বাসায় দিন-রাত কাজ করে তাকে বড় করেছি। কিন্তু বিয়ের পর সে আমাকে ভুলে গেছে, নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে।’
তিনি জানান, বাসা থেকে বের করে দেওয়ার পর সোহাগ নিজে উপস্থিত থেকে তার চাচা ও চাচাতো ভাইদের দিয়ে মা, ভাই ও বোনকে মারধর করান। এ ঘটনায় তিনি (মা) প্রীতমের চাচা ও চাচাতো ভাইদের বিরুদ্ধে মামলা করলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সোহাগ সেই মামলা ‘ডিসমিস’ করিয়ে নেন। পরে আবার চাচাকে সামনে রেখে নিজের মা-ভাই-বোনের বিরুদ্ধেই আদালতে মামলা করান সোহাগ।
গলার থাইরয়েডের গুরুতর সমস্যায় ভুগলেও ছেলে চিকিৎসার দায়িত্ব নেয়নি দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী পাঁচ মাস হলো মারা গেছে। আমাকে এক বছরও ভালোভাবে খাওয়ায়নি। আমার গলায় থাইরয়েড- অপারেশন লাগবে বলেছি, সে বলে টাকা নাই। অথচ বাসা বানায়, সবকিছু করতে পারে, কিন্তু মায়ের চিকিৎসাটুকু করতে পারে না। চাচাকে নিয়ে আমার নামে মামলাও দিয়েছে। এমন সন্তান থাকার চেয়ে মরে যাওয়া ভালো।’
সোহাগের ছোট ভাই সোহানুর রহমানও ফেসবুক লাইভে মা-বোনের পাশে থেকে বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে, অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে এনসিপি নেতা প্রীতম সোহাগ দাবি করেছেন, স্থানীয় বিএনপি ও রাজনৈতিক নেতাদের উস্কানিতে তার মা, ভাই ও বোন ফেসবুক লাইভে এসে এসব অভিযোগ তুলেছেন।
তিনি বলেন, ‘পারিবারিক মনোমালিন্য হয়তো আজ কিংবা কাল শেষ হয়ে যাবে তাই না? আমার মায়ের কাছে যদি আমি পায়ে ধরে মাফ চাইয়ালাই। যাই ভুল করছি ওনি হয়তো ক্ষমা করবেন। ঠিক আছে? বোনও ক্ষমা করবে। কিন্তু ওনারা যে আমার ইজ্জতটা হানি করলো এই কষ্টটা আমি কোথায় রাখি?’
তিনি আরও জানান, ‘২০১০ সালের দিকে তার বাবা মাত্র ২০ হাজার টাকায় নামমাত্র মূল্যে একটা জমি বিক্রি করেছিলো তার চাচার কাছে কিন্তু তার বাবার মৃত্যুর পর এখন তার মা, বোন, ভাই এবং সৎ মা একটা ফন্দি আঁটছেন কিভাবে একটা মামলা দেওয়া যায়, জমিটা ফিরিয়ে আনা যায়। এখন ওনারা যদি মামলা দেয় আমি কি পারি যে মায়ের দিকে থাকবো নাকি চাচার দিকে থাকবো। আমি বলেছি আমার জায়গাও দরকার নাই আমার কিচ্ছুই দরকার নাই। তোমরা কিছু কর। সুতরাং আমি সে জায়গা থেকে নীরব। আর এ জমি নিয়া আমার মা আর ছোট ভাই একটু বাড়াবাড়িই করতেছে।’