লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও বুড়িমারী রুটে ঢাকা চলাচলকারী চারটি আন্তঃনগর ট্রেনে তীব্র কোচ সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে নিয়মিত যাত্রীদের অনেককেই আসন ছাড়াই দাঁড়িয়ে কিংবা সংকীর্ণ জায়গায় গাদাগাদি করে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
সিডিউল বিপর্যয় ঠেকাতে এসব ট্রেনের জন্য অতিরিক্ত ক্যারেজ সংযোজন করা হয়নি। ফলে সময়মতো ট্রেন ছাড়তে না পারা, মাঝপথে দীর্ঘ অপেক্ষা এবং গন্তব্যে দেরিতে পৌঁছানো এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে। অনেক সময় ১ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত সিডিউল বিপর্যয়ের শিকার হন যাত্রীরা। যাত্রী চাপ সামাল দিতে চারটি ট্রেনের জন্য অন্তত একটি বাড়তি ক্যারেজ সংযোজন এখন জরুরি হয়ে পড়েছে।
লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে দপ্তর জানিয়েছে, ঢাকা রুটে লালমনিরহাট থেকে ‘লালমনি এক্সপ্রেস’, রংপুর থেকে ‘রংপুর এক্সপ্রেস’, কুড়িগ্রাম থেকে ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ এবং বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে ‘বুড়িমারী এক্সপ্রেস’ চলাচল করে। প্রতিটি আন্তঃনগর ট্রেনে কোচ রয়েছে মাত্র ১৪টি, যেখানে চাহিদা কমপক্ষে ১৮ থেকে ২০ কোচ। বর্তমানে ১৪টি কোচে মোট আসন সংখ্যা ৬৫৩টি। অতিরিক্ত ট্রেনযাত্রীদের চাপ সামলাতে এত কম কোচ পর্যাপ্ত নয়।
রংপুর রেল স্টেশনে ট্রেনের অপেক্ষায় ছিলেন ইলেকট্রনিক ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান। তিনি রংপুর নগরীর জাহাজ কোম্পানি মোড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি জানান, ‘ট্রেনে চাহিদামতো আসন নেই। কোচ কম থাকায় অনেক যাত্রীকে দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করতে হয়। কেউ স্ট্যান্ডিং টিকিট কাটেন, আবার অনেকে কোনোভাবে ট্রেনে উঠে পড়েন। কোচ বাড়ানো হলে রেলওয়ে লাভবান হবে, আর যাত্রীরা আরও নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারবেন।’
কুড়িগ্রাম স্টেশনের যাত্রী কাপড় ব্যবসায়ী ইয়াছিন আলী বলেন, মাঝে মাঝে টিকিটই পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে স্ট্যান্ডিং টিকিট কাটতে হয়। ঢাকা রুটে কোচ বাড়ানো ছাড়া যাত্রী ভোগান্তি কমবে না।’
লালমনিরহাট থেকে ঢাকাগামী কলেজশিক্ষক সহিদুল হক জানান, লালমনি এক্সপ্রেস ও বুড়িমারী এক্সপ্রেসের সিডিউল প্রায়ই বিপর্যয় ঘটে। ১ থেকে ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত দেরি হয়। একটি বাড়তি ক্যারেজ থাকলে এই ভোগান্তি অনেকটাই কমে যেত। আমাদের অঞ্চলকে রেল উন্নয়ন থেকে সবসময়ই বঞ্চিত মনে হয়।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পোষ্য সোসাইটির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির বলেন, ‘সরকার নতুন কোচ আমদানির প্রস্তুতি নিয়েছে। রংপুর অঞ্চলের চারটি আন্তঃনগর ট্রেনে চাইলে এখনই কোচ সংখ্যা বাড়ানো এবং একটি বাড়তি ক্যারেজ সংযোজন করা সম্ভব। এতে সিডিউল বিপর্যয় কমবে ও যাত্রীদের দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করতে হবে না। এতে রেলওয়ে ও যাত্রী দুপক্ষই লাভবান হবে।’
লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ের বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (ক্যারেজ অ্যান্ড ওয়াগন) শেখ আসিফ আহমাদ বলেন, ‘ঢাকা রুটে চলাচলকারী চারটি আন্তঃনগর ট্রেনে আসনসংখ্যা বাড়াতে প্রতিটিতে ৪–৫টি কোচ এবং সময়সূচি ঠিক রাখতে একটি অতিরিক্ত ক্যারেজ সংযোজনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে সারাদেশেই কোচ সংকট রয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিদেশ থেকে নতুন কোচ আমদানির প্রক্রিয়া চলছে। তবে নতুন কোচ না পেলেও পুরোনো কোচ পাওয়া গেলে আপাতত সমস্যার সমাধান হবে। আমরা সে চেষ্টা করছি।’