বরগুনার বেতাগী উপজেলার ১২ বছরের শিশুকে ধর্ষণের দায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত মহসিন কাজী (৪৫) উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের সরিষামুড়ি গ্রামের মৃত আইউব আলীর ছেলে।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুর পৌনে ১২টায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক জেলা দায়রা জজ লায়লাতুল ফেরদৌস চাঞ্চল্যকর এই ধর্ষণ মামলার রায় দেন। এ সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৬টায় মক্তবে যাচ্ছিল ভুক্তভোগী ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া ছাত্রী। এ সময় রাস্তায় একা পেয়ে মহসিন কাজী তাকে প্রলোভন ও গলায় চাকু ধরে জঙ্গলে নিয়ে ধর্ষণ করে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারকে জানালে বেতাগী থানায় মহসিন কাজীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করা হয়।
ভুক্তভোগীর বড়বোন বলেন, এ রকম একটি অপকর্মের ন্যায্য বিচার পেয়েছি আমরা খুশি হয়েছি। রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীর মা।
দণ্ডপ্রাপ্ত মহসিন কাজীর মা বিউটি বেগম বলেন, বাদী পক্ষের লোকজন মীমাংসা করাতে টাকা পয়সা চেয়েছিল। আমি শাকপাতা বিক্রি করি খাই। তাদের চাহিদা মতন টাকা দিতে পারিনি বলে আমার ছেলের ফাঁসি হয়েছে। আমি গরিব মানুষ আপিল করবো সেই সামর্থ্যও নেই।
নারী ও নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রনজুয়ারা শিপু বলেন, মামলাটি একটি চাঞ্চল্যকর ঘটনা। মক্তবে পড়তে যাওয়ার সময় শিশুকে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ধরে নিয়ে ধর্ষণ করার ঘটনা গর্হিত অপরাধ। আদালতে আমি অপরাধীর এই অপকর্ম রাষ্ট্রের পক্ষে প্রমাণ করাতে পেরেছি।