পাবনার ঈশ্বরদীতে জামায়াত-বিএনপির সংঘর্ষের সময় গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। আগ্নেয়াস্ত্র বের করে গুলি করার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। এর পরই বন্দুকধারী যুবকের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে তাকে একে অপরের কর্মী বলে দাবি করছে জামায়াত ও বিএনপি। এ নিয়ে দুদলই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছে। ফলে ওই যুবকের পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তার পরিচয় সনাক্তও এখন স্থানীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সামনে থাকা প্রতিপক্ষকে লক্ষ্য করে এক যুবক আগ্নেয়াস্ত্র হাতে গুলি ছুড়ছেন। অনুসন্ধান আর বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ-খবর নিয়ে ভাইরাল হওয়া যুবকের পরিচয় মিলেছে। তার নাম তুষার মণ্ডল। তিনি ঈশ্বরদী পৌরসভার ভেলুপাড়া এলাকার তাহের মণ্ডলের ছেলে।
স্থানীয় বেশ কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, তুষার পাবনা জেলা জামায়াতের আমির ও পাবনা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের ভাতিজা মামুন মন্ডলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
বিএনপির দাবি, ‘অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করা সেই যুবক তুষার মন্ডল জামায়াতের কর্মী’। তবে জামায়াত এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, ‘সেই যুবক জামায়াতের কোন কর্মী নয়’।
এ বিষয়ে পাবনা-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবের অভিযোগ, প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর গুলি করেছে জামায়াত কর্মী তুষার মন্ডল। অথচ গুলিবর্ষণের দায় উল্টো বিএনপির ওপর চাপাতে চাচ্ছে জামায়াত। তুষার জামায়াতে ইসলামীর নেতা তালেব মন্ডলের ভাতিজা মামুন মন্ডলের ‘সন্ত্রাসী’ বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে অস্ত্র হাতে ভাইরাল ওই যুবক জামায়াতের কর্মী নন বলে দাবি করেছেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ও পাবনা-৪ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল। তিনি বলেন, অস্ত্র হাতে ওই যুবক আমাদের দলের কেউ নন, আমরা তাকে চিনি না।
এ বিষয়ে আবু তালেব মন্ডলের ভাতিজা মামুন মন্ডলের মুঠোফোনে শুক্রবার সন্ধ্যায় বারবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও তার সাড়া মেলেনি।
তুষার মন্ডলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ.স.ম. আব্দুন নূর বলেন, বিভিন্নভাবে ওই যুবকের নাম পরিচয় আমাদের নিকট এসেছে। আমরা তদন্ত করে দেখছি। ইতোমধ্যে এ নিয়ে পুলিশ কাজ করছে। শতভাগ নিশ্চিত হয়ে ওই যুবকের বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে, গতকাল বিকেলে ঈশ্বরদীর চরগড়গড়ি আলহাজ্ব মোড় (জগির মোড়) এলাকায় আগের বিরোধকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ, ভাংচুর, মোটর সাইকেল পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী তালেব মন্ডল, সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষকদলের আহবায়ক মক্কেল মৃধাসহ দুপক্ষের প্রায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।