শীতের দীর্ঘ রাতের পর সূর্যোদয়ের আগেই গাছ থেকে খেজুর রস সংগ্রহ করেন গাছিরা। সংগ্রহকৃত রস ছাকনি দিয়ে পরিস্কার করে সরাসরি উত্তপ্ত করার করা হয়। আগুনের লেলিহান শিখা ধরে রাখতে জ্বালানি সরবরাহ করে একজন কর্মী। আর সেই উত্তপ্ত রস নাড়াচাড়া করে তৈরি হয় শীতের পিঠার অন্যতম রসদ খেজুর গুড়।
নওগাঁর শৈলগাছি ইউনিয়নের দিঘির পাড় এলাকায় পৌঁছাতে দেখা যায় খেজুর গাছের ডাল (কাণ্ড বিশিষ্ট খেজুর গাছের পাতা) দিয়ে ঘেরা গুড় তৈরির ঘর। গত ২২ বছর যাবত একই এলাকায় খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরি করে আসছেন তারা।
রাজশাহী জেলার বাঘা থানা এলাকার সাপান আলী তার তিনজন কর্মীকে নিয়ে আগ্রাহয়ণ এর শুরু থেকেই খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে গুড় তৈরির কাজ শুরু করেছেন। তিনি বিকেল বেলায় গাছে হাড়ি টাঙিয়ে দিয়ে আসেন। আবার সুর্য ওঠার পুর্বেই হাড়িতে থাকা রস সংগ্রহ করেন গুড় তৈরির জন্য।
সাপান আলীর সাথে কথা হয় নাগরিক প্রতিদিনের প্রতিনিধির। তিনি জানান, বাপ-দাদার কাছ থেকে পাওয়া এই গুড় তৈরির শিক্ষা দিয়েই নিজের জীবিকা নির্বাহ করছেন।
প্রায় ২২বছর যাবত তিনি এই এলাকার সবকটি খেজুর গাছ থেকেই রস সংগ্রহ করে আসছেন। সংগ্রহের পর ছাকন পদ্ধতিতে পরিশুদ্ধ রসকে চুলা্র ওপর পাত্রে রেখে জ্বাল করা হয়। এসময় কাঠের নাড়ানি দিয়ে ভালোভাবে নাড়িয়ে প্রথমে চিটা গুড়ে রুপান্তরিত করা হয়।
এর পর বিভিন্ন ফর্মায় রেখে আলাদা আলাদা আকার দিয়ে বাজারজাত করা হয়। অগ্রাহয়ণ থেকে শুরু করে মাঘ মাসের শেষ পর্যন্ত তার এই গুড় তৈরির কাজ চলমান থাকে। রস সংগ্রহের পর তা থেকে গুড় তৈরি করে প্রতিবছর তার আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা লভ্যাংশ থাকে।