পটুয়াখালী সদর উপজেলার ছোট বিঘাই ইউনিয়নের হরতকীবাড়িয়া গ্রামে ঘটেছে এক বিস্ময়কর ঘটনা। স্থানীয় আয়েশা সিদ্দিকা (রা.) মহিলা মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ১৪ বছর বয়সী শিক্ষার্থী জুবাইদা, হঠাৎ করেই মেয়ে থেকে ছেলেতে রূপান্তরিত হয়েছেন। এখন তার নতুন নাম তানভীর। ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক মাস ধরেই জুবাইদার শরীরে দেখা যাচ্ছিল অস্বাভাবিক পরিবর্তন—কণ্ঠস্বর ভারী হওয়া, আচরণগত পরিবর্তন এবং শারীরিক গঠনের ভিন্নতা। প্রথমে বিষয়টি গোপন রাখলেও পরিবর্তন বাড়তে থাকায় পরিবারকে জানায় সে।
দেড় মাস আগে একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের শরীরে হঠাৎ বড় পরিবর্তন অনুভব করে জুবাইদা। বুঝতে পারে—সে আর আগের মতো নেই। পরে পরিবারের সিদ্ধান্তে তার নাম পরিবর্তন করে তানভীর রাখা হয়।
গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ‘‘জুবাইদা ছোট থেকেই অসুস্থ ছিল। অনেক সময় তার নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হতো। অনেক জায়গায় তার চিকিৎসা করানো হয়েছে। হঠাৎ করে খবর পাই, সে মেয়ে থেকে ছেলেতে রূপান্তরিত হয়েছে। তাই দেখতে এসেছি।’’
তানভীরের বাবা আবুল কালাম বলেন, ‘‘জুবাইদা ছোট থেকেই অসুস্থ ছিল। তাকে অনেক যায়গায় চিকিৎসা করানো হয়েছে। তার কণ্ঠস্বর এবং শারীরিক গঠনের পরিবর্তন লক্ষ্য করেও চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হয়েছিলাম। কিন্তু, তাই কিছুই বলতে পারেনি। হঠাৎ একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে জানতে পারি, জুবাইদার ছেলেতে রূপান্তরিত হয়েছে। দেশবাসীর কাছে ছেলের জন্য দোয়া চাই।’’
পরিবার আরও জানায়, রূপান্তরের পর এখন আগের মতো আর অসুস্থ নয় তানভীর। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছে সে। প্রতিদিনই তাকে দেখতে ভিড় করছেন আশপাশের উৎসুক মানুষ।
জুবাইদা ওরফে তানভীর বলে, ‘‘আমি অনেক অসুস্থ ছিলাম। দেড় মাস আগে একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখি, মেয়ে থেকে ছেলেতে রূপান্তরিত হয়েছি। পরে পরিবারকে বিষয়টি জানাই। এখন মোটামুটি সুস্থ আছি।’’
বিস্ময়কর এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় চলছে নানা আলোচনা। তবে পরিবার ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা—তানভীর যেন সুস্থ, নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারে।