দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র বন্দর মোংলায় প্রথমবারের মতো প্রতি ঘণ্টায় ২৪টির বেশি কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হচ্ছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহের ফলে জেটির সম্মুখে নিয়মিত ড্রেজিং করা হচ্ছে। এতে করে নাব্যতা বিরাজমান থাকায় পাঁচটি জেটিতে একইসঙ্গে পাঁচটি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হচ্ছে। এসব তথ্য জানিয়েছেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল শাহীন রহমান।
সোমবার (০১ ডিসেম্বর) বন্দরের ৭৫তম প্রতিষ্টাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব তথ্য জানান। এদিন বেলা ১১টায় বন্দর প্রশাসনিক ভবন চত্বর থেকে র্যালি বের হয়ে জেটির গেটে গিয়ে শেষ সময়। পরে সেখানে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করা হয়।
শাহীন রহমান জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে বন্দরে জাহাজ এসেছে ৩৫৬টি, কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ১৩ হাজার ৮৫৪টি, গাড়ি আমদানি ৪ হাজার ১৩৯টি, পণ্য আমদানি-রপ্তানি ৪৪ লাখ টন। এছাড়া আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহের ফলে প্রথমবারের মতো প্রতি ঘণ্টায় ২৪টিরও বেশি কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হচ্ছে। এবং জেটির সম্মুখে নিয়মিত ড্রেজিংয়ের ফলে নাব্যতা বিরাজমান থাকায় পাঁচটি জেটিতে একইসঙ্গে পাঁচটি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশে ট্রানজিট পণ্য মোংলা বন্দরের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানির সুদূরপ্রসারী সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মোংলা বন্দর ব্যবহার করে স্থল, নৌ এবং রেলপথের মাধ্যমে রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল বিভাগের পণ্য পরিবহনকে সহজতর ও দ্রুত করবে। বন্দরে ইতোমধ্যে স্থাপিত হয়েছে পোর্ট রিসেপশন ফেসিলিটি (পিআরএফ), যা উদ্বোধনের জন্য অপেক্ষমান রয়েছে। এর ফলে এ অঞ্চলে তেলবাহী কোনো জাহাজ বা ট্যাংকার হতে দুর্ঘটনার কারণে পানিতে তেল নিঃসরণ হলে তেল অপসারণকারী ভেসেলের মাধ্যমে তা সংগ্রহ করে নদী ও সামুদ্রিক পরিবেশকে দূষণ থেকে রক্ষা করার সক্ষমতা অর্জন করবে মোংলা বন্দর।
তার মতে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাণপ্রবাহ এ বন্দরটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি বর্তমানে খাদ্যশস্য, সিমেন্ট ক্লিংকার, সার, মোটর গাড়ি, মেশিনারিজ, চাল, গম, কয়লা, তেল, পাথর, ভুট্টা, তেলবীজ, এলপিজি গ্যাস আমদানি এবং সাদামাছ, চিংড়ি, পাট ও পাটজাত দ্রব্য, হিমায়িত খাদ্য, কাকড়া, ক্লে, টাইলস, রেশমি কাপড় ও জেনারেল কার্গো রপ্তানির মাধ্যমে দেশের চলমান অর্থনীতিতে বিশেষ ভূমিকা রেখে আসছে।
১৯৫০ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর পিডি-৪(৪৮)/৫০/১ সংখ্যক গেজেট নোটিফিকেশন বলে সেবছর ১ ডিসেম্বর চালনা পোর্ট নামে এ বন্দর প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৯৮৭ সালের পোর্ট অব চালনা অথরিটি অ্যাক্ট অনুসারে, প্রথমে চালনা বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং পরবর্তীতে মোংলা পোর্ট অথরিটি নামে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।