পাহাড়ে পটপরিবর্তনের পরও পরিস্থিতি আগের মতোই রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে সিএইচটি সম্প্রীতি জোট। এছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন—তার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (০২ ডিসেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এই প্রশ্ন তোলেন আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার থোয়াইচিং মং শাক। তিনি বলেন, বাংলাদেশ একক, অবিভাজ্য, সাংবিধানিক রাষ্ট্র। এখানে কোনো অঞ্চলে পৃথক প্রশাসনিক সার্বভৌমত্ব গড়ে তোলা যাবে না। তাহলে কী প্রক্রিয়ায় সরকার এখনও তাকে আগের পদে বহাল রেখেছে?
তিনি আরও বলেন, পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীকে পূর্ণ সক্ষমতা দেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয়ভাবে আস্থা, ভ্রাতৃত্ববোধ ও দেশপ্রেম বৃদ্ধির কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
সমাবেশে সংগঠনটির সদস্য সচিব ইখতিয়ার ইমন অভিযোগ করেন, হাজার হাজার কোটি টাকার বাজেট নিয়ে পাহাড়ে অস্ত্রবাজি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। ভয় দেখিয়ে সাধারণ জনগণকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই একটি গোষ্ঠী পাহাড়কে বিচ্ছিন্ন করার ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। আমরা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, চাকমা, মারমা, বাঙালি, সবাই বাংলাদেশি পরিচয়ে একসঙ্গে থাকতে চাই। শান্তিতে থাকতে গেলে শান্তি চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে, প্রয়োজন হলে বাতিল করতে হবে। এই চুক্তির নামে যে অযৌক্তিক বাজেট চলছে, তা বন্ধ করতে হবে।
বক্তারা বলেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তিচুক্তি ‘কালো চুক্তি’ হিসেবে পরিচিত। তাদের দাবি, এটি সংবিধানবিরোধী হওয়ায় পুনর্মূল্যায়ন বা বাতিল করে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাস নির্মূল এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষমতা নিশ্চিত করা জরুরি।
মানববন্ধনে হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, ‘কেউ নয় আদিবাসী, আমরা সবাই বাংলাদেশি’, ‘আঞ্চলিক পরিষদের বাজেট বন্ধ কর’, ‘সন্ত্রাসমুক্ত পাহাড় চাই’, ‘পাহাড়ে ভূমি আইন ঠিক কর’, ‘ভূমি কমিশনে ১৪ জাতির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
মানববন্ধন শেষে এক বিক্ষোভ মিছিল জামালখাঁন সিঁড়ির গোড়া থেকে চেরাগী পাহাড় চত্বরে যায়। সেখানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের মাধ্যমে সমাবেশ শেষ হয়। সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সংগঠনের মুখপাত্র পাইশিখই মারমা, কার্যকরী সদস্য শাহীন আলম, সদস্য পাইমংথুই মারমা ও মুজিব উল্লাহ তুষার।