চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) জীববিজ্ঞান অনুষদের পেছনে অভিযান চালিয়ে চোলাই মদ তৈরি ও বন্য প্রাণী শিকারের অভিযোগে সুমন চাকমা (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (০১ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১২টায় প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দীর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এ অভিযানে তার ঘর থেকে প্রায় ৩০ লিটার মদ, সরঞ্জাম ও বন্যপ্রাণী শিকারের বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তির বাড়ি খাগড়াছড়িতে।
চবি প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চাষাবাদের উদ্দেশ্যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জমি ইজারা নিলেও সুমন ঘরের পেছনের লম্বা বারান্দায় গোপনে গড়ে তোলেন মদের কারখানা। পাহাড়সংলগ্ন নির্জন এলাকা হওয়ায় সেখানে মানুষের অত্যধিক যাতায়াত নেই। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি নিয়মিত চোলাই মদ প্রস্তুত করতেন। একইসঙ্গে বন্যপ্রাণী শিকারের সঙ্গেও তিনি জড়িত ছিলেন।
তার বাড়িতে বহিরাগত ও শিক্ষার্থীদের অস্বাভাবিক চলাচল বেড়ে গেলে প্রক্টরিয়াল বডির সন্দেহ সৃষ্টি হয়। এরপর তাকে নজরদারিতে রাখা হয়। পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাত সাড়ে ১২টায় প্রক্টর অধ্যাপক হোসেন শহীদ সরওয়ার্দীর নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা এ অভিযানে তার ঘর থেকে ৩০ লিটার চোলাই মদ ও মদ তৈরির বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধার করা হয়।
সহকারী প্রক্টর নুরুল হামিদ জানান, অভিযান শেষে সুমনকে রাতেই থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভাড়া নেওয়া জমিতে মদ উৎপাদন, অনুমতি ছাড়া গাছ কাটা এবং বন্যপ্রাণী শিকারের অভিযোগে তার ইজারা বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি এসব অপরাধের কারণে প্রয়োজনীয় জরিমানার ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।
সহকারী প্রক্টর কানন জানান, জব্দ করা চোলাই মদ বিভিন্নজনের কাছে সরবরাহের উদ্দেশ্যে প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছিল। অভিযানের সময় ঘর থেকে মদ বিক্রির হিসাব-নিকাশ লেখা একটি খাতাও উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সুমন স্বীকার করেছেন যে তিনি জঙ্গল থেকে বন্য শূয়র, হরিণ, বন মুরগিসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণী শিকার করে তাদের মাংস বিক্রি করতেন।
হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, পুলিশ বাদী হয়ে আটক সুমনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।