চট্টগ্রামে সমমনা ৮ ইসলামী দলের নেতারা দাবি করেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে এই ৮ দলের জোট। তাদের মতে, বিএনপি আর বড় দল নয়; রাজনৈতিক বাস্তবতায় ইসলামী ৮ দলই এখন দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্ল্যাটফর্ম।
একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের মতো ‘ভারতের কাছে দেশের সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিতে’ তারা রাজি নন এবং সেনা অফিসার হত্যার ‘কারিগরদের’ উচ্ছেদ করতে চাইলে জনগণকে ইসলামী শক্তির পাশে দাঁড়াতে হবে।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে ৮ ইসলামী দলের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে নেতারা এসব কথা বলেন। জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ, গণভোটসহ পাঁচ দফা দাবির পক্ষে আগামী ৫ ডিসেম্বর লালদীঘি মাঠে বিভাগীয় সমাবেশকে সামনে রেখে এ আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেছেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরও দেশ গভীর রাজনৈতিক সংকটে নিমজ্জিত। দীর্ঘ ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের ফলে জনগণ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে প্রায় দুই হাজার মানুষ শহীদ হয়েছেন, আহত হয়েছেন হাজারো। জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যে গঠিত এই অন্তর্বর্তী সরকার দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা পুনর্নির্ধারণের দায়িত্বে রয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চট্টগ্রাম মহানগর আমীর জান্নাতুল ইসলাম বলেন, ‘৮ ইসলামী জোটই নির্বাচনে বড় চমক। বিএনপি এখন আর বড় রাজনৈতিক শক্তি নয়।’ তিনি আরও দাবি করেন, সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ও সেনা অফিসার হত্যার ‘হোতাদের’ বিচার নিশ্চিত করতে জনগণকে ইসলামী শক্তির সঙ্গে থাকতে হবে।’
জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে ‘স্বৈরাচারের দোসর’ আখ্যা দিয়ে বক্তারা বলেন, দেশের রাজনীতি শুদ্ধ করতে হলে তাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা এখন সময়ের দাবি। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ৮ দলের পাঁচ দফা বাস্তবায়নই ভবিষ্যৎ গণতন্ত্র ও সুশাসনের ভিত্তি স্থাপন করতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ দফা দাবিগুলো উপস্থাপন করা হয়। এগুলো হলো—
১. জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন ২. সংসদের উভয় কক্ষে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) চালু ৩. সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করে অবাধ নির্বাচন ৪. জুলুম, গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা ৫. জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা।
সমাবেশে ৮ ইসলামী দলের কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতারা বক্তব্য রাখেন। উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতে ইসলামীর আমীর ড. শফিকুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম (শায়েখে চরমোনাই), খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক, নেজামে ইসলাম পার্টির আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা সরওয়ার কামাল আজিজী, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের, জাগপার মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, খেলাফত আন্দোলনের আমীর মাওলানা হাবীবল্লাহ মিয়াজী এবং ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম চান।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরের আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চট্টগ্রাম মহানগর আমীর জান্নাতুল ইসলাম, খেলাফত মজলিস মহানগর আমীর মাওলানা এমদাদ উল্লাহ সোহাইল, অধ্যাপক খুরশিদ আলম, মাওলানা জিয়াউল হোছাইন, জাগপার নগর সভাপতি আবু জাফর মোহাম্মদ আনাস এবং ডেভেলপমেন্ট পার্টির সহসভাপতি এডভোকেট আবদুল মোতালেব।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে নেতারা বলেন, দেশের রাজনৈতিক পুনর্গঠনের এ গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। ৫ ডিসেম্বরের লালদীঘির বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে চট্টগ্রামবাসী ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করছি।