সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক রোগীর শরীরে পাঁচ মাস আগের মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্যালাইন পুশিংয়ের পর রোগীর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে তাকে জরুরি ভিত্তিতে সিলেটের জালালাবাদ রাগিব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন।
জানা যায়, ছাতক উপজেলার কালারুকা ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের আবদুল হান্নানের ছেলে ত্বোহা মিয়া (২৬)। তিনি ছাতক বাজারে ‘আল হারামাইন থান অ্যান্ড টেইলার্স’-এর পরিচালক। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তীব্র পেটব্যথা নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে বেলা একটার দিকে পপি নামের এক নার্স তাকে স্যালাইন পুশ করেন। কিন্তু স্যালাইন প্রয়োগের কিছুক্ষণের মধ্যেই ত্বোহা মিয়ার পেটব্যথা দ্বিগুণ বেড়ে যায় ও শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এ সময় সঙ্গে থাকা স্বজন আল-আমিন তাশরিফ স্যালাইন ব্যাগ দেখেন—এটি মেয়াদোত্তীর্ণ।
স্বজনদের অভিযোগ, স্যালাইনটি ২০২২ সালের জুন মাসে উৎপাদিত, মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৫ সালের ৫ মে, অর্থাৎ ঘটনার দিন এটির মেয়াদ ৫ মাস আগেই শেষ হয়ে গেছে। স্যালাইনের মোড়কে আরও উল্লেখ ছিল ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সম্পদ, ক্রয়-বিক্রয় আইনত দণ্ডনীয়’। মেয়াদোত্তীর্ণ সরকারি স্যালাইন হাসপাতালে কীভাবে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত ছিল— তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্বজন এবং স্থানীয়রা।
মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন পুশিংয়ের বিষয়টি জানতে পেরে আল আমিন তাশরিফ নিজের ফেসবুক আইডি থেকে তাৎক্ষণিক একটি লাইভ করেন। লাইভে হাসপাতালের অবহেলা ও অপচিকিৎসার অভিযোগ তুলে ধরলে ভিডিওটি মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। হাসপাতালের দায়িত্বশীলতা নিয়ে নানামুখী সমালোচনা চলছে।
ঘটনার পর আজ বুধবার সকাল ১০টায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ভুক্তভোগীর স্বজনদের মধ্যে একটি মীমাংসা বৈঠকের কথা রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনাটি ছড়ানোয় প্রশাসনের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত আরেফিন বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত শুরু করেছি। ইতোমধ্যে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয়রা বলছেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জনবল সংকট, নজরদারির অভাব ও ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় প্রায়ই রোগীরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন রোগীর শরীরে পুশিংয়ের ঘটনা হাসপাতালের চরম অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার জ্বলন্ত উদাহরণ।