একদিকে গরু চুরির মামলা, অন্যদিকে দলীয় ভোজে চুরি করা গরুর মাংস রান্নার অভিযোগ—সব মিলিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকে বহিষ্কার হন জামালপুরের মাদারগঞ্জে বিএনপি নেতা মো. মাহমুদুল হাসান চৌধুরী মুক্তা। অবশেষে আবার তাকে দলে ফিরিয়ে নিল বিএনপি। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর আগে, চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষতির বিজ্ঞপ্তিতে গরু চুরি করে ভুড়িভোজের অভিযোগে দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি মাদারগঞ্জে উপজেলা ও পৌর মহিলা দলের নারী সমাবেশকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ কয়ড়া গ্রামে ভুরিভোজের আয়োজন করেন ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুক্তা চৌধুরী ও তার স্ত্রী, জেলা মহিলা দলের অর্থ ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক লায়লা খাতুন ইতি।
ঘটনার আগের দিন শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার খামারমাগুরা গ্রামের কৃষক এফাজ মণ্ডলের গোয়ালঘর থেকে ৯০ হাজার টাকার একটি গরু চুরি হয় ও রাতেই জবাই করা হয়। স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে কসাই বজলু প্রামাণিককে গরুর চামড়াসহ ধরে ফেলেন। পরে পুলিশ সুমন মণ্ডল ও বজলুকে আটক করে। ঘটনাস্থল থেকে ২০ কেজি মাংস ও চামড়া জব্দ করা হয়।
ঘটনা প্রকাশিত হলে মুক্তা চৌধুরী ও তার স্ত্রী গা-ঢাকা দেন। ভোজে অংশ নেওয়া কর্মীরা পালিয়ে যাওয়ায় বড় হাড়িতে রান্না করা বিরিয়ানি স্থানীয়রা লুটে নিয়ে যায়, যা জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে।
এই ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান মুক্তা চৌধুরীকে দলীয় পদ থেকে সাময়িক অব্যাহতি ও সাত দিনের মধ্যে বক্তব্য দিতে নির্দেশ দেন তৎকালীন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মঞ্জুর কাদের বাবুল খান।
তবে ১২ জানুয়ারি রোববার দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে দলের প্রথামিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়। এ ঘটনায় গরুর মালিক ১২ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৭–৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে জানতে চাইলে আদারভিটা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী মুক্তা জানান, রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে আমাকে ফাঁসানো হয়েছিল। আজ দলের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। বাকি দিনগুলো জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিক হয়ে কাজ করবো।