স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ধারাবাহিক উন্নয়ন কার্যক্রমে দ্রুত বদলে যাচ্ছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গ্রামীণ জনপদ। উপজেলাজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোতে দৃশ্যমান অগ্রগতি স্থানীয় মানুষের জীবনমানকে ইতোমধ্যে আরও উন্নত করেছে। একসময় উপজেলার বেশকিছু গ্রামীণ সড়ক ছিল চলাচলের অযোগ্য। জোড়াতালি দিয়ে টিকে থাকা রাস্তাগুলোতে প্রতিনিয়ত ঘটত দুর্ঘটনা, ভোগান্তিতে পড়তেন সাধারণ মানুষ।
জানা যায়, উপজেলার আলাইপুর ক্লাব মোড় থেকে চিত্রা নদী পর্যন্ত প্রায় ৯১০ মিটার রাস্তা নতুনভাবে নির্মাণ করা হয়েছে। একইভাবে শাহাপুর ঘিঘাটি থেকে বড় ঘিঘাটি পর্যন্ত ৮৯০ মিটার সড়ক এবং দুলালমুন্ডিয়া বাজার থেকে ছোট শিমলা পর্যন্ত ১ হাজার ৬৩০ মিটার সড়কের উন্নয়ন কার্যক্রমও এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। দীর্ঘদিন অবহেলিত এসব সড়ক নতুনভাবে সংস্কার হওয়ায় চলাচলে স্বস্তি ফিরেছে।
এছাড়া ঝিনাইদহ জেলা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তত্তিপুর মডার্ণ ব্রিক্স থেকে পুকুরিয়া পর্যন্ত ১ হাজার ৯০ মিটার, বারফা-পরানপুর সড়ক এবং তালসার থেকে কাশিপুর পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৫৪১ মিটার দীর্ঘ সড়ক উন্নয়নকাজও সম্পন্ন হয়েছে। উপজেলায় কৃষি ও পণ্য পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এসব সড়ক সংস্কারের ফলে এলাকার মানুষের ভোগান্তি কমেছে।
ওয়েস্টার্ন ইকোনোমিক করিডোর অ্যান্ড রিজিওনাল এনহ্যান্সমেন্ট প্রোগ্রাম (উইকেয়ার) প্রকল্পের অধীনে সাদিকপুর ত্রিমোহনী থেকে আড়পাড়া বাজার পর্যন্ত ৪ হাজার ২৪৩ মিটার সড়ক, এবং বেথুলি হাই স্কুল থেকে কোলা জিসি পর্যন্ত ৪ হাজার ৭০০ মিটার সড়কের কাজ চলছে। এসব সড়ক কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সুদৃঢ় করবে।
বুরাল কানেক্টিভিটি ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্টের (আরসিআইপি) আওতায় কাশিপুর বাজার থেকে বালিয়াডাঙ্গা জিসি পর্যন্ত প্রায় ৪ হাজার মিটার সড়কের কাজ শেষ হয়েছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এই সড়ক নির্মাণ এলাকার মানুষের জন্য যোগাযোগে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোতেও চলছে ব্যাপক উন্নয়ন। প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে আড়পাড়া-শিবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারতলা ভবন, বেজপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দোতলা ভবন এবং মনোহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এসব প্রকল্পে ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৫ কোটি টাকা।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আগে এসব সড়কে চলাচল করা দুঃসাধ্য ছিল। এখন রাস্তা ভালো হওয়ায় বাজারে মালামাল আনা-নেওয়া অনেক সহজ হয়েছে। এতে আমাদের সময় ও খরচ—দুটোই কমেছে।’
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা খাতুন জানান, ‘স্কুলে বাচ্চাদের নিতে যেতে খুব কষ্ট হতো। বৃষ্টি হলেই রাস্তা কাদায় চলা যেত না। এখন সড়ক উন্নয়ন হওয়ায় গ্রামের সঙ্গে শহরের যোগাযোগ অনেক সহজ হয়েছে।’
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী সৈয়দ শাহরিয়ার আকাশ বলেন, ‘কালীগঞ্জ উপজেলায় মানসম্মত অবকাঠামো নির্মাণই আমাদের মূল লক্ষ্য। প্রতিটি প্রকল্প নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি। কাজগুলো শেষ হলে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে এবং যোগাযোগব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে।’