নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না এবং তার অংশীদার ও আওয়ামী লীগ নেতা এবিএম নাজমুল কাদির শাজাহান চৌধুরীকে ঋণ পরিশোধে কলব্যাক নোটিশ দিয়েছে ইসলামী ব্যাংকের বগুড়া জেলার বড়গোলা শাখা।
আফাকু কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেডের নামে খেলাপি ৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা পরিশোধে বুধবার (৪ ডিসেম্বর) ইসলামী ব্যাংক বগুড়া শাখা প্রধান মো. তৌহিদ রেজা স্বাক্ষরিত এ নোটিশ জারি করা হয়। আগামী ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।
নাজমুল কাদির জুলাই গণহত্যার ৯ মামলার পলাতক আসামি ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে অভিযোগ উঠেছে, যেই আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন সমালোচনা করে আসছেন মাহমুদুর রহমান মান্না, ঠিক সেই দলেরই এক প্রভাবশালী নেতার সঙ্গে তিনি ব্যবসায় যুক্ত। ওই আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গণহত্যার জন্য বগুড়া সদর ও শিবগঞ্জ থানায় ৯টি মামলা রয়েছে।
ইসলামী ব্যাংকের চিঠিতে বলা হয়েছে, আফাকু কোল্ড স্টোরেজ একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও মান্না ইচ্ছাকৃতভাবে ঋণ পরিশোধ করেননি। বারবার নোটিশ করা হলেও টাকা পরিশোধের কোনো চেষ্টাও করেননি।
ব্যাংকের নোটিশ অনুযায়ী, ২০১০ সালে ২২ কোটি টাকার বিনিয়োগ অনুমোদন করা হলেও, মুনাফা, চার্জ ও জরিমানা পরিশোধ না করায় বর্তমানে বকেয়া দাঁড়িয়েছে ৩৮ কোটি ৪ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।
চলতি বছর ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ না হলে ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে বলে জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে মাহামুদুর রহমান মান্না গণমাধ্যমকে বলেন, ‘খেলাপি ঋণ আগে থেকেই ছিল। ব্যাংকে নতুন কোনো নোটিশ সম্পর্কে এখনও কিছু জানি না। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী নতুন করে শিডিউলের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ শোধের চেষ্টা করছি।’
এদিকে, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসন থেকে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন মাহমুদুর রহমান মান্না।
সেক্ষেত্রে আইন অনুযায়ী ঋণখেলাপি অবস্থায় মাহমুদুর রহমান মান্না আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না সে নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।