আরও ৩৬ আসনে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ তথ্য জানান।
এ সময়ে কক্সবাজার-২ আসনে (মহেশখালী ও কুতুবদিয়া) বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদের নাম ঘোষণা করা হয়।
এর কিছুক্ষণ পর রাত ৯টার দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন আলমগীর ফরিদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ও মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল আলম।
মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে- প্রিয় নেতার মনোনয়ন পাওয়ার খবরে খুশিতে উত্তেজনায় স্ট্রোক করে মারা গেছেন ফরিদ। বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমেও এ ধরনের খবর প্রকাশিত হয়।
তবে মনোনয়নের খবরে মারা যাওয়ার বিষয়টিকে গুজব বলে দাবি করেছে ফরিদের পরিবার।
অসত্য তথ্যে বিব্রত পরিবার জানিয়েছে, ফরিদ দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে ভুগছিলেন এবং আগেও কয়েকবার স্ট্রোক করেছেন। টানা ১৫ দিন ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গত সপ্তাহে তাকে কালারমারছড়ার নোনাছড়িস্থ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।
ফরিদের ভাতিজা মোহাম্মদ নিশান বলেন, আলমগীর চাচার মনোনয়ন পাওয়ার খবরে আমার চাচা খুশিতে স্ট্রোক করে মারা গেছেন এ খবর মোটেও সত্য নয়। উনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই চাচার অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় তাকে চট্টগ্রাম নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু সন্ধ্যায় হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে আমরা তাকে পাশের বদরখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাই। আশঙ্কাজনক অবস্থায় সেখান থেকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) জানাজা শেষে বিএনপি নেতা ফরিদের দাফন সম্পন্ন হবে জানিয়েছেন তার ভাতিজা। তিনি বলেন, দয়া করে গুজব বা অসত্য তথ্য ছড়াবেন না। সবাই আমার চাচার জন্য দোয়া করবেন।
এদিকে মহেশখালী উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফরিদুল আলমের মৃত্যুতে বিএনপি প্রার্থী আলমগীর মোহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদসহ নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।