লালমনিরহাটে ‘পরিচ্ছন্নকর্মী’ পদে নিয়োগ পরীক্ষায় বৈষম্যের শিকার হওয়ার অভিযোগে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে ব্যানার ও ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জেলার হরিজন (সুইপার) সম্প্রদায়।
শনিবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেলে লালমনিরহাট বিভাগীয় রেলওয়ে স্টেশনের পূর্ব ও পশ্চিম পাশের সুইপার কলোনী থেকে মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এসে সমবেত হন আন্দোলনকারীরা। সেখানে ‘বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদ ও হরিজন অধিকার আদায় সংগঠন’ জেলা শাখার ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন করেন তারা।
এ সময় আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসক এএচইএম রকিব হায়দার ইচ্ছাকৃতভাবে কঠিন প্রশ্নপত্র তৈরি করে কৌশলে তাদের নিয়োগপ্রাপ্তি বাতিল করার চেষ্টা করছেন।
গত ১৩ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্তৃক সংস্থাপন শাখায় মোট সাতটি পদের অনুকূলে ৩৯ জনকে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে ‘পরিচ্ছন্নকর্মী’ পদের শিক্ষাগত যোগ্যতা চাওয়া হয় জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় হরিজন সম্প্রদায়ের প্রার্থীদের প্রতি চরম বৈষম্য করা হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, ডিসি অফিস ওই ৩৯ জন স্টাফ নিয়োগে তাদের সঙ্গে যে বৈষম্য করেছে, তার প্রমাণ কঠিন প্রশ্নপত্র। অথচ এই পদে ঐতিহ্যগতভাবে এবং পেশাগত দিক দিয়ে হরিজনদের অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা।
আগামীকাল রোববার (৭ ডিসেম্বর) রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে এই নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তার আগেই, বৈষম্যের প্রতিবাদে সরব হলেন হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষজন।
এ বিষয়ে ডিসি এইচএম রকিব হায়দার বলেন, প্রশ্নপত্র নির্দিষ্ট কারও জন্য করা হয় না। সব প্রার্থী বিবেচনা করে কর্তৃপক্ষ প্রশ্নপত্র তৈরি করেছেন। পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে কেউ যদি আন্দোলন করে তাতে কিছু করার নেই। মাত্র ফাইনাল হলো, অপেক্ষা করেন! অস্থির হওয়ার কিছু নেই। আর পরীক্ষায় টিকেনি কে বলেছে? হরিজন সম্প্রদায়ের তিনজন টিকেছে বলে আমি জেনেছি।
বৈষম্যের অভিযোগ ও ডিসির পাল্টা মন্তব্যের মধ্যে নিয়োগ বাতিল না হওয়ার আগ পর্যন্ত এ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন হরিজনরা।