তিস্তা ব্যারাজের সিল্ট্রাপে নিষিদ্ধ বোমা মেশিন
নীলফামারীর ডিমলার ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজের সিল্ট্রাপে সরকারি বালু অপসারণের কাজের আড়ালে নিষিদ্ধ বোমা মেশিন দিয়ে গভীর খনন চলছে—এমন অভিযোগ মিলেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে। নদী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে খনন সরাসরি ব্যারাজের ফাউন্ডেশনকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
চলতি মৌসুমে সেচব্যবস্থা সচল রাখতে সিল্ট্রাপ থেকে ২ লাখ ৮৫ হাজার ঘনমিটার বালু তোলার দায়িত্ব পায় দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। জানায়, সিরাজগঞ্জের ঠিকাদার ইউনাইটেড ব্রাদার্স সাইটে ২০-২৫টি বোমা মেশিন বসিয়ে রাত-দিন খনন চালাচ্ছে। বালুর বড় অংশ টলি-ট্রাকে বাইরে বিক্রি হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সিল্ট্রাপ মূলত ব্যারাজের নিরাপত্তা-বাফার; এখানে গভীর গর্ত তৈরি হলে পানির চাপ সরাসরি ফাউন্ডেশনে পড়ে। বাংলাদেশে নিষিদ্ধ এই বোমা মেশিন দিয়ে তুললে তলদেশ ধসে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তিস্তা বাঁচাও নদী বাঁচাও সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি নজরুল ইসলাম হক্কানী বলেন, এ ধরনের যন্ত্র ব্যারাজের নিচের মাটি শূন্য করে দেয়। এটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।
তিস্তাপাড়ের কৃষক হাবিবুর রহমানের অভিযোগ, বালু অপসারণের নামে দিনের চেয়ে রাতেই উত্তোলন বেশি। বাধা দিলে হুমকি দেয়। কেউ মুখ খুলে না, ভয় পায়।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ডালিয়ার বড় কাজগুলো নির্দিষ্ট মহল নিয়ন্ত্রণ করে। সাধারণ ঠিকাদার পান না। অভিযোগ তুললে চাপ আসে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও পরিবেশ-নীতিমালা অমান্য করে এভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে ব্যারাজের ভিত্তি দুর্বল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারি অর্থও লোপাটের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, ড্রেজার অকেজো। তাই স্থানীয় যন্ত্র ব্যবহার হচ্ছে। এতে ক্ষতি হবে না। ঠিকাদারি প্রভাব সংক্রান্ত অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ব্যবহৃত যন্ত্র বোমা মেশিন কি না তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।