শীতকালীন সবজিতে ভরে গেছে চট্টগ্রামের বিভিন্ন কাঁচাবাজার। তবে মৌসুমি সবজির সরবরাহ বাড়লেও প্রত্যাশা অনুযায়ী কমেনি দাম, এমন মন্তব্য ক্রেতাদের। অন্যদিকে বিক্রেতাদের দাবি, পরিবহন ব্যয় ও বারবার হাতবদলের কারণে সবজির দামে এখনো চাপ রয়ে গেছে।
রোববার (৭ ডিসেম্বর) নগরীর বহদ্দারহাট, কাজির দেউড়ি, পাহাড়তলী, রিয়াজুদ্দিন বাজার ও হালিশহরসহ বড় কয়েকটি বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। একইসঙ্গে বাজারে নতুন আলুসহ নানা ধরনের শীতকালীন সবজি উঠতে শুরু করেছে। তারপরও সবজির দামে কাঙ্ক্ষিত স্বস্তি পাচ্ছেন না ক্রেতারা।
কর্ণফুলী বাজারে কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী রোকসানা বেগম বলেন, ‘প্রতিদিনই এই বাজার করি। সবজির প্রাচুর্য থাকলেও দাম একটু বেশি। শীতকালীন সবজি দাম তো এতো বেশি হওয়ার কথা নয়। আরও কমলে ভালো হতো।’
বাজারের ব্যবসায়ীরা বলছেন, দক্ষিণ চট্টগ্রামের কর্ণফুলী, পটিয়া, চন্দনাইশ, বোয়ালখালী ও দোহাজারী ও সীতাকুণ্ড উপজেলাগুলো থেকে উৎপাদিত সবজি শহরের বিভিন্ন বাজারে আসে। কিন্তু কয়েক দফা হাতবদল, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও পাইকারি-খুচরা দামের ব্যবধানের কারণে ভরা মৌসুমেও সবজির দাম প্রত্যাশা অনুযায়ী কমেনি।
২ নম্বর গেট কর্ণফুলী বাজারে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় কিছু সবজির দাম কমেছে। কাঁচামরিচ কেজিতে ৭০–১০০ টাকা, যা গত সপ্তাহে ছিল ১২০–১৫০ টাকা। ধনেপাতা কেজিতে ৭০ টাকা। শিমের দাম একসময় ১৫০ টাকা ছাড়ালেও এখন ৮০ টাকা। ফুলকপি কেজিতে ৬০–৭০, বাঁধাকপি ৪০, মুলা ৬০ টাকা।
টমেটো গত সপ্তাহে ১২০–১৪০ টাকা থাকলেও এখন ১০০ টাকা কেজি। দেশি গাজর ৬০–৮০ টাকা, আমদানিকৃত গাজর ১২০–১৩০ টাকা। বেগুন ৭০–৮০ টাকা কেজি। নতুন আলু ৮০ টাকা, পুরোনো আলু আগের মতোই ২৫ টাকা কেজি। করলার দাম বেড়ে হয়েছে ১২০ টাকা। পালং শাক ও কপি শাক আটিপ্রতি ৪০ টাকা, লাল শাক ৩০ টাকা।
তবে স্বস্তির খবর এসেছে মুরগি ও ডিমের বাজারে। ডিমের দাম কমে বর্তমানে ডজন ১১০ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১৩০–১৩৫ টাকা। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ১৬০ টাকা। আগে ছিল ১৭০–১৮০। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২৮০ টাকা কেজিতে, আগে ছিল ৩০০ টাকা।
মুরগি ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতকালে ব্রয়লার মুরগির রোগবালাই কম হওয়ায় উৎপাদন ভালো থাকে। ডিম নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাও কম। এ কারণে দাম এখন কিছুটা নিম্নমুখী। এছাড়া, গরুর মাংস হাড়সহ কেজিতে ৭৫০ টাকা, হাড় ছাড়া ৯০০ টাকা। ছাগলের মাংস ১২০০ টাকা কেজি। সব মিলিয়ে শীতের সবজিতে বাজার ভরে থাকলেও দাম নিয়ে ক্রেতাদের স্বস্তি এখনো পুরোপুরি ফিরেনি।