ঘণ্টা দুয়েকের বৃষ্টিতে রাজধানী অচল, ভাঙছে নাগরিক সহনশীলতা। প্রযুক্তিনির্ভর ‘কৃত্রিম বৃষ্টি’ কি হতে পারে ভবিষ্যতের জলাবদ্ধতা প্রতিরোধের চাবিকাঠি?
ঢাকার আকাশে বৃষ্টি নামলেই রাস্তায় নামে পানির স্রোত। বছরের পর বছর একই দৃশ্য, একই দুর্ভোগ। মাত্র ঘণ্টা দুয়েকের বৃষ্টিতেই রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো হাঁটু পানিতে তলিয়ে যায় বিভ্রান্ত হয় যান চলাচল, স্থবির হয় অফিস, স্কুল ও দৈনন্দিন জীবন।
প্রশ্ন উঠছে এই জলাবদ্ধতা কি প্রকৃতির দায়, নাকি আমাদের অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফল?
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়নের কাজ চলছে, কিন্তু বেড়ে যাওয়া বৃষ্টিপাতের ধারা এবং আবর্জনাজনিত বন্ধ ড্রেনই মূল বাধা। কিন্তু নাগরিকরা বলছেন, 'এই একই কথা আমরা প্রতিবছরই শুনি'।
'কৃত্রিম বৃষ্টি': ভবিষ্যতের প্রযুক্তি?
এমনই এক বিকল্প প্রযুক্তি হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত হচ্ছে ‘কৃত্রিম বৃষ্টি’ বা cloud seeding technology। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অনেক দেশেই কৃত্রিমভাবে মেঘে রাসায়নিক ছড়িয়ে বৃষ্টি নামানো হচ্ছে, কখনও খরার সমাধান হিসেবে, কখনও বৃষ্টিপাত ‘নিয়ন্ত্রণ’ করতে।
বাংলাদেশে এই প্রযুক্তি এখনও বাস্তবায়নের পর্যায়ে আসেনি। তবে জলবায়ু পরিবর্তন এবং নগর সংকটের প্রেক্ষাপটে এটি নিয়ে গবেষণা শুরু হওয়া দরকার বলে মত দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।পরিবেশবিদ ড. নাজমুল হক বলেন, “প্রকৃতি নিয়ে খেললে তার বিপরীত প্রতিক্রিয়াও হতে পারে। কিন্তু বিজ্ঞান ও প্রকৌশলের ভারসাম্য বজায় রেখে ব্যবহৃত হলে কৃত্রিম বৃষ্টি হতে পারে অত্যন্ত কার্যকর একটি নগর পরিকল্পনার অংশ।”
স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক
Cloud seeding-এর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত সিলভার আয়োডাইড ও অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থের দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। তাই প্রশ্ন থেকে যায় জলাবদ্ধতা কমাতে কি আমরা আরেকটি দুর্যোগ আমন্ত্রণ জানাচ্ছি? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তির ব্যবহার হোক বা না হোক প্রথমত জরুরি হলো ঢাকার বিদ্যমান ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও আবর্জনার সঠিক ব্যবস্থাপনা।
নাগরিকের কণ্ঠ
বসুন্ধরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত অফিসগামী এক ভুক্তভোগী বলেন, “গাড়িতে বসে তিন ঘণ্টা লাগছে বাসায় ফিরতে এটা কোনো শহরের চিত্র হতে পারে?”
ফেসবুক-টুইটারে ছড়িয়েছে ভিডিও, যেখানে দেখা যাচ্ছে পানিতে থইথই করছে রাজপথ, সিএনজি-রিকশা দাঁড়িয়ে আছে ডুবে, শিশুরা খেলছে জলাবদ্ধতার মাঝে কেউ বলছেন, এটা হাসির নয়, কষ্টের ছবি।