সীমান্তে বাংলাদেশি যুবককে গুলি করে হত্যার পর ‘সরি’ বলে ‘দায় এড়ানোর চেষ্টা’ করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার নাজিরগোমানী এলাকায় বিজিবি-বিএসএফের মধ্যে সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠক হয়। এদিন বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রায় ১০০ গজ ভেতরে হওয়া ওই বৈঠকে ‘দুঃখ প্রকাশ’ করেছে বিএসএফ।
জানা যায়, বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়া ও সীমান্তে চলমান বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা করতে বৈঠকের উদ্যোগ নেয় বিজিবি। প্রধান পিলার ৮৬৮-এর ৩ নম্বর উপ-পিলারের কাছাকাছি ‘ব্রিটিশ সড়ক’ এলাকায় আয়োজিত এ সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন বিজিবির রংপুর সেক্টর কমান্ডার কর্নেল এস এম শফিকুর রহমান। অন্যদিকে ভারতের পক্ষে গোপালপুর সেক্টর কমান্ডার ডিআইজি ডি এস রাঠোর ১২ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
বিজিবি জানায়, পতাকা বৈঠকে গত ৪ ডিসেম্বর বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহতের বিষয়টি তুলে ধরে ব্যাখ্যা চায় বিজিবি। জবাবে বিএসএফের প্রতিনিধি দল ঘটনাটির জন্য ‘দুঃখ প্রকাশ’ করে জানায়, চোরাকারবারীরা কাঁটাতার কেটে ভারতীয় সীমান্তে প্রবেশের চেষ্টা করায় এ ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ ঘটনা ঘটে। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি যেন আর সৃষ্টি না হয়—সে বিষয়ে আশ্বস্ত করে বিএসএফ।
এছাড়া দুই বাহিনী অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, মানুষকে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়া (পুশইন), সীমান্ত এলাকায় তিন ফুটের বেশি উচ্চতার ফসল (যেমন পাট ও ভুট্টা) চাষ না করা এবং দা, কুড়ালের মতো দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কাঁটাতারের কাছাকাছি না যাওয়ার বিষয়ে একমত হয়। সীমান্তে যেকোনো সমস্যা দেখা দিলে আলোচনা করে সমাধান করার প্রতিশ্রুতিও দেন দুই বাহিনীর সেক্টর কমান্ডার।
তবে সীমান্তে প্রায়ই বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যার অভিযোগ ওঠে প্রতিবেশী ভারতের সীমান্তরক্ষীর বাহিনীর বিরুদ্ধে। তবে হত্যার পর এসব ঘটনাকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ বলে অধিকাংশ সময়ই উল্লেখ করে দেশটি। এছাড়াও হত্যার শিকার বাংলাদেশিদের ‘চোরকারবারি’ বলে অভিযুক্ত করে থাকে বিএসএফ। স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তে বিএসএফের বেপরোয়া হত্যাকাণ্ড বন্ধে বাংলাদেশ সরকারকে শক্ত অবস্থান নিতে হবে।
গত ৪ ডিসেম্বর পাটগ্রাম সীমান্তে সুবজ নামের (২৫) এক বাংলাদেশি যুবককে গুলি করে হত্যা করে বিএসএফ। ভারতের অভ্যন্তরে তাকে হত্যার পর মরদেহ নিয়ে যায় দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী। নিহত সবুজ উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়নের পঁচাভান্ডার এলাকার শেরাজুল ইসলামের ছেলে।
এরও আগে, গত ২৯ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গার জীবননগরের গয়েশপুর সীমান্তে শহিদুল ইসলাম শহিদ (৩৭) নামে এক বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করে বিএসএফ। ঘটনার এক সপ্তাহ পর মরদেহ ফেরত দেয় ভারত। নিহত শহিদ জীবননগর উপজেলার গয়েশপুর গ্রামের নস্কর আলীর ছেলে।