বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মতো শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পরিবারকেও রাষ্ট্রীয় বেতন-ভাতা ও সম্মানী ব্যবস্থার আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি। মহান মুক্তিযুদ্ধে যেমন মুক্তিযোদ্ধারা সম্মুখযুদ্ধে জীবন উৎসর্গ করে দেশকে স্বাধীন করেছেন, তেমনি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান শহীদ বুদ্ধিজীবীরাও তাদের মেধা, প্রজ্ঞা ও চিন্তাশক্তি দিয়ে স্বাধীনতার সংগ্রামকে সুদৃঢ় করেছিলেন। অথচ স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পেরিয়ে গেলেও শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পরিবার রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে এখনও উপেক্ষিত রয়ে গেছে।
১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা।
রবিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বক্তারা বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীরা ছিলেন জাতির মেরুদণ্ড। স্বাধীনতার ঠিক প্রাক্কালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা পরিকল্পিতভাবে দেশের খ্যাতনামা শিক্ষক, লেখক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার মেধাবী মানুষদের হত্যা করে। এর উদ্দেশ্য ছিল সদ্য জন্ম নেওয়া বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করে দেওয়া, যেন স্বাধীন দেশটি নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনার সংকটে পড়ে।
তারা আরও বলেন, রাষ্ট্র বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য যেভাবে সম্মানী ভাতা, মাসিক আর্থিক সহায়তা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেছে, ঠিক তেমনিভাবে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পরিবারকেও একটি স্থায়ী বেতন-ভাতা কাঠামোর আওতায় আনা উচিত। এটি কেবল আর্থিক সহায়তা নয়, বরং জাতির পক্ষ থেকে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ।
বক্তারা দাবি করেন, শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পরিবারের প্রতি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি আরও দৃশ্যমান করতে তাদের জন্য আলাদা ভাতা ব্যবস্থা, চিকিৎসা সুবিধা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অবদান তুলে ধরতে শিক্ষা কার্যক্রমে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধি, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ স্থানীয় সুধীজনেরা উপস্থিত ছিলেন।