অপরাধ দমন ও মামলার পলাতকদের ধরতে দেশজুড়ে হঠাৎ অভিযানে তোলপাড়, গ্রেফতার ১৫৫৬, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার।
বাংলাদেশে একদিনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ইতিহাসে অন্যতম বড় অভিযান পরিচালনা করে ১৫৫৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত দেশব্যাপী চালানো হয় এই বিশেষ ‘ক্র্যাকডাউন’, যার লক্ষ্য ছিল নিয়মিত মামলার পলাতক আসামি, ওয়ারেন্টভুক্ত অপরাধী ও সক্রিয় অপরাধ চক্র। পুলিশের সদর দপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অভিযানে ৭৮৬টি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়, অংশ নেয় প্রায় ২০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য। এসময় মাদক, অস্ত্র ও অবৈধ সরঞ্জামসহ উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ আলামত। পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (অপরাধ ও অপারেশনস) মাহবুব হোসেন জানিয়েছেন, “জাতীয় নিরাপত্তা ও জনজীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ অভিযান নিয়মিত চালানো হবে। সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আমরা পলাতক ও সক্রিয় অপরাধীদের তালিকা তৈরি করেছি এবং ধাপে ধাপে তাদের গ্রেফতার করছি।” দেশের বিভিন্ন জেলায় এই অভিযান চালানো হয়; এরমধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেট অঞ্চল ছিল হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে বেশি ২৭৯ জন গ্রেফতার হয়েছে, যাদের অধিকাংশই মাদক সংক্রান্ত মামলার পলাতক। রাজশাহীতে অস্ত্রসহ আটক হয়েছে ৩টি সংঘবদ্ধ দলের সদস্য, যাদের বিরুদ্ধে একাধিক খুন ও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। পুলিশের এই অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন আইন ও অপরাধ বিশ্লেষকেরা। তবে কিছু মানবাধিকার সংগঠন বলছে, অভিযানে যেন নিরীহ কাউকে হয়রানি না করা হয়, সেদিকে সতর্ক থাকা জরুরি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. রেজওয়ান কবীর বলেন, “এই ধরনের অভিযান ভালো, তবে বিচারবহির্ভূত কোনো আচরণ যেন না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।” আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন, এটি ছিল একটি ‘মডেল অভিযান’, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে নিয়মিত অপরাধ দমন কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার অভিজ্ঞতা নেওয়া হবে। পুলিশের তরফ থেকে বলা হয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১১০০ জনের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। এই অভিযানকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকে মনে করছেন, এই অভিযান জননিরাপত্তায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, আবার কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, যদি নিরীহ ব্যক্তিরাও এর শিকার হন তবে বিপর্যয় হতে পারে। তবে মোটাদাগে বলা যায়, রাষ্ট্রীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এমন সমন্বিত অভিযান, যা নির্দিষ্ট তথ্য ও উদ্দেশ্যভিত্তিক, তা একদিকে যেমন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর, অন্যদিকে নাগরিক আস্থা বৃদ্ধিতেও সহায়ক হতে পারে।