চট্টগ্রাম নগরী
চট্টগ্রাম নগরের ফতেয়াবাদ থেকে নিউমার্কেটের তিন নম্বর সড়কে প্রতিদিন চলাচল করছে অন্তত দুই শতাধিক মিনিবাস। কিন্তু এসব গাড়ির বড় অংশের চালকের নেই বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স, নেই গাড়ির ফিটনেস ও মানা হয় না কোনো ট্রাফিক আইন।
যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন, টোকেন ছাড়া ভাড়া আদায় ও নির্দিষ্ট গন্তব্যের আগেই যাত্রী নামিয়ে দেওয়াসহ নানাভাবে যাত্রী হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। সড়কের প্রতিটি মোড়ে যানজটের কারণে গন্তব্যে পৌঁছাতে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন গণপরিবহনের যাত্রীরা।
অভিযোগ রয়েছে, বাস মালিকদের সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশেই এসব গাড়ি নির্বিঘ্নে চলাচল করছে। যাত্রীদের মাঝপথে নামিয়ে দেওয়া, চালক-হেলপারের সঙ্গে যাত্রীদের প্রতিদিন তর্ক-বিতর্ক ও মারামারির ঘটনাও ঘটছে। দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা এসব দুর্ভোগের প্রতিকার চান স্থানীয় বাসিন্দা ও যাত্রীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নগরের তিন নম্বর রোডে ফতেয়াবাদ থেকে নিউমার্কেট রুটে প্রায় দুই শতাধিক মিনিবাস চলাচল করে। দীর্ঘদিন ধরে নতুন রুট পারমিট দেওয়া বন্ধ থাকলেও ফিটনেসবিহীন বাস দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এই সড়কে। ভাঙা দরজা-জানালা, রং উঠে যাওয়া এসব বাস মাসিক তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকার চুক্তিতে সড়কে চলাচল করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি এসব বাসের অধিকাংশ চালক ও হেলপার মাদকাসক্ত বলেও অভিযোগ যাত্রীদের।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এসব মিনিবাস নিয়মিত যাত্রী হয়রানি করে। বিশেষ করে সন্ধ্যায় অফিসফেরত যাত্রীদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। ফতেয়াবাদ থেকে নিউমার্কেট পর্যন্ত রুট পারমিট থাকলেও অধিকাংশ বাস পুরো পথ যায় না। ফতেয়াবাদ থেকে যাত্রী নিয়ে অক্সিজেন এসে নামিয়ে দেয়। এরপর অক্সিজেন থেকে যাত্রী তুলে মুরাদপুরে নামিয়ে দেয়। সেখান থেকে আবার যাত্রী তুলে নিউমার্কেট পর্যন্ত যায়
একইভাবে বিকেলে নিউমার্কেট থেকে যাত্রী তুলে মুরাদপুরে নামিয়ে দেওয়া হয়, মুরাদপুর থেকে অক্সিজেন, এরপর অক্সিজেন থেকে ফতেয়াবাদ। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে চালক ও হেলপার মিলে যাত্রীদের মারধর করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এদিকে অধিকাংশ বাস পোশাক কারখানায় ভাড়ায় যাওয়ায় যাওয়ায় এই রুটে তীব্র গণপরিবহন সংকট তৈরি হয়। মাসিক চুক্তিতে চলাচলের কারণে ট্রাফিক পুলিশ এসব অনিয়ম দেখেও না দেখার ভান করে বলে অভিযোগ যাত্রীদের। এমনকি বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) কার্যালয়ের সামনের সড়কেই ফিটনেসবিহীন বাসে যাত্রী হয়রানি চললেও কোনো অভিযান দেখা যায় না।
এই রুটের যাত্রী ও ফতেয়াবাদের বাসিন্দা আবদুল করিম বলেন, সকালে অফিসে যেতে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়। গাড়িগুলো একেবারেই ভাঙ্গাচোরা, তার ওপর মাঝপথে নামিয়ে দেয়। প্রতিবাদ করলে চালক ও হেলপাররা উদ্ধত আচরণ করে। সন্ধ্যার পর ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বাস পাওয়া যায় না। ট্রাফিক প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় চালকেরা এমন হয়রানি করছে।
চট্টগ্রাম সিটি মিনিবাস হিউম্যান হলার পরিবহন মালিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ চৌধুরী বলেন, এখন আমাদের কার্যক্রম নেই। নির্বাচিত সরকার এলে কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে। মালিক সমিতি, ট্রাফিক ও পরিবহন শ্রমিক মিলেই সড়কে শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হয়। এক পক্ষ সক্রিয় না থাকলে স্বাভাবিক অবস্থা বজায় রাখা কঠিন।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম নগরের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) নেছার উদ্দীন আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।