মো. আব্বাস মিয়াজী। দীর্ঘ প্রায় দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের রাজনীতিতে যুক্ত। হামলা-মামলাও দমাতে পারেনি তাকে। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে ঢাকার রাজপথেও ছিলেন সক্রিয়, সন্ত্রাসীদের হামলায় মাথায় প্রচন্ড আঘাতপ্রাপ্ত হন।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের খবরে দুই চাকার সাইকেল নিয়ে বেরিয়েছেন তিনি। গন্তব্য প্রায় ২৫০ কি.মি. দূরের ঢাকার ৩০০ ফিট, উদ্দেশ্য তারেক রহমানকে দুচোখে এক নজর দেখে তার হাতে একমুঠো ধানের শীষ তুলে দেবেন।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে থেকে ঢাকার ৩০০ ফিটে তারেক রহমানের জনসভায় যোগ দিতে দুই চাকার পায়ে চাপার প্যাডেলের সাইকেলে অভিনব পদ্ধতিতে ধানের শীষ, তারেক রহমানের ছবিযুক্ত ফেষ্টুন, জাতীয় পতাকা ও বিএনপির পতাকা এবং নিজের পুরো শরীরে ধানের শীষ লাগিয়ে সাইকেল চালিয়ে রওনা হন তিনি।
জানা গেছে, আব্বাস মিয়াজী ভোলা সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মিয়াজী বাড়ির বাসিন্দা রতন মিয়াজী ও রাহেলা বেগম দম্পতির ছেলে। এবং চরসামাইয়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের দপ্তর সম্পাদক ও ৫নম্বর ওয়ার্ড শ্রমিকদলের সভাপতি। তার স্ত্রী ও ৬ কন্যা সন্তান রয়েছে। পেশায় তিনি একজন ট্রাক চালক ছিলেন।
আরও জানা গেছে, ট্রাক চালিয়ে উপার্জনের অর্থে বাবা-মা ও স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে মোটামুটি ভালোই চলছিল আব্বাসের পরিবার। তার বাবা বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় বিএনপির প্রতি ভালোবাসা ও আবেগ জন্ম নেয় পারিবারিক ভাবেই। এরপর থেকে পুরোদমে সরাসরি জড়িয়ে পড়েন বিএনপির অঙ্গসংগঠন শ্রমিকদলের রাজনীতির সঙ্গে। আওয়ামী লীগের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেও রাজপথে ছিলেন সক্রিয়। ২৪-র জুলাই আগস্টে ছাত্র-জনতার সঙ্গে নেমে পড়েন রাজপথে। এরপর ঢাকার শাহজাদপুরে সন্ত্রাসীদের ইটের আঘাতে মাথায় মারাত্মক আঘাত পেয়ে বাড়ি ফিরে আসেন, ধার দেনা করে কিছুটা চিকিৎসা চালালেও বর্তমানে অর্থাভাবে বন্ধ রয়েছে বাকি চিকিৎসা।
আব্বাস মিয়াজী বলেন, বিগত দিনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের বহু নির্যাতনের শিকার হয়েছি। ঘরে ভাতের চাল না থাকলেও বিএনপির কোনো কর্মসূচি মিস করিনি, যোগদান করেছি। মনে আছে, ঢাকায় বিএনপির প্রোগ্রামে সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকার দেওয়ায় আমার বিরুদ্ধে ভোলা থানায় মামলা হয়েছে শুধুমাত্র বিএনপি করার অপরাধে। এছাড়াও আমার বিরুদ্ধে তিনটি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে, জেল খেটেছি।
তিনি আরও বলেন, বিগত দিনে আমাদের নেতা তারেক রহমানকে দেশে ফেরত আনতে আন্দোলন করেছি, মার খেয়েছি, মামলা খেয়েছি। অবশেষে আগামী ২৫ ডিসেম্বর আমাদের নেতার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আনন্দে ব্যক্তিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে সাইকেল চালিয়ে বরিশাল হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি। আমি যদি সাইকেল চালিয়ে ঢাকায় গিয়ে পৌঁছাতে পারি তাহলে আমার কষ্ট সফল হবে। আমি চাই তারেক রহমানের হাতে একমুঠ ধানের শীষ দিতে। বিএনপির কাছে আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই।
পথচারী মো. রুবেল ও আবু তাহের বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে বিভিন্ন স্তরের বিএনপি নেতাকর্মীরা ঢাকা যাচ্ছেন বলে শুনছি। তবে আব্বাস সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমী ভাবে নিজের শরীরে ও সাইকেলে ধানের শীষ লাগিয়ে সাইকেল চালিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাচ্ছেন, বিষয়টি আসলে প্রশংসনীয়৷ ভোলা থেকে বরিশাল হয়ে ঢাকার দূরত্ব প্রায় ২৮০ কিলোমিটার, সাইকেল চালিয়ে যাওয়াটা সহজ ব্যাপার নয়। মোট কথা তার দলের প্রতি ভালোবাসা আমাদেরকে মুগ্ধ করেছে।
এ বিষয়ে ভোলা সদর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. ফরহাদ বলেন, আব্বাস মিয়াজীর মতো নেতাকর্মীরাই বিএনপির শক্তি। আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে তিনি ঢাকায় যাচ্ছেন, তার আশা হচ্ছে তারেক রহমানের হাতে ধানের শীষ তুলে দেবেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে তারা যেন আব্বাসের আশা পূরনের ব্যবস্থা করেন।