কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে ১৪ জন ভারতীয় নাগরিককে অবৈধভাবে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে পুশব্যাক করেছে বিজিবি।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) আনুমানিক দুপুর ২টার ১০ মিনিটের সময় কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধীনস্থ রামকৃষ্ণপুর বিওপির প্রতিপক্ষ ১৪৬ ব্যাটালিয়ন বিএসএফের বাউশমারী বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্ত পিলার ১৫৭/১-এস হতে ৬০ গজ দূরবর্তী মদনের ঘাট (জিআর-৬৮৬৬৪৮) এলাকা দিয়ে ১৪ জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে পুশইনের চেষ্টা করে। যার মধ্যে ৬ জন পুরুষ, ৪ জন মহিলা এবং ৪ জন শিশু।
এ সময় রামকৃষ্ণপুর বিওপি’র টহল দল তৎপরতা এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে বিএসএফ পুশইন করতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে বিএসএফ কর্তৃক ভারতীয় নাগরিকদের পুশইনের চেষ্ট অব্যাহত রাখে এবং সীমান্ত শূন্য লাইন হতে ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে বিজিবি টহল দল সীমান্ত শূন্য রেখা বরাবর টহল তৎপরতা বৃদ্ধি করে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নিউ উদয়া বিএসএফ ক্যাম্পের আহ্বানে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধীনস্থ আশ্রায়ন বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ১৫৪/৭-এস হতে আনুমানিক ১০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে চাইডোবা নামক স্থানে বিজিবি-বিএসএফ কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এতে পতাকা বৈঠকে ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের নিউ উদয়া ক্যাম্পের পক্ষে নেতৃত্ব দেন এসি অনিল কুমার। এসময় তার সঙ্গে ৬ জন ছিলেন।
বিজিবির পক্ষে নেতৃত্ব দেন মহিষকুন্ডি কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মো. আসাদুজ্জামান। এসময় তার সঙ্গেও ৬ জন ছিলেন। পতাকা বৈঠকে বিজিবির প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে বিএসএফ কর্তৃক সীমান্ত শূন্য লাইন হতে ১৪ জন ভারতীয় নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত নিয়ে হয়।
বিজিবি জানায়, কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের সীমান্ত অপরাধ নির্মূলে সর্বদা চেষ্টা করে যাচ্ছে এবং মাদক পাচারসহ সব ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।