সংসদ নির্বাচন
একসময় জাতীয় পার্টির (জাপা) দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল লালমনিরহাট। তবে এবার দৃশ্যত ভোটের মাঠে বড় শক্তি বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। দুদলই জাপার আধিপত্য ভাঙতে মরিয়া।
তবে তিন আসনের দুটিতেই বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন বিদ্রোহীরা। বিএনপির এই বিবাদের সুবিধা পেতে পারে জামায়াতে ইসলামী। বিএনপি-জামায়াতের বাইরে জাতীয় পার্টি, এবি পার্টি, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিসের মতো দলগুলোও ভোটের মাঠে তৎপর রয়েছে।
জেলার ১১ লাখ ৬২ হাজার ৬২৮ জন ভোটারের রায় পেতে চলছে তুমুল প্রতিযোগিতা। যার মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ২৪ হাজার ৫২২ জন এবং নারী ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ৩৮ হাজার ১০৬ জন। ভোটগ্রহণের জন্য থাকছে ৩৮৫টি কেন্দ্র ও ২ হাজার ১৯৩টি ভোটকক্ষ। এই বিশাল সংখ্যক ভোটারের ভাগ্য এবার তিস্তা মহাপরিকল্পনা, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান—এই চারটি প্রধান ফ্যাক্টরের ওপর নির্ভর করছে।
লালমনিরহাট-১ (পাটগ্রাম-হাতীবান্ধা)
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান। তিনি এই অঞ্চলের মূল ইস্যু হিসেবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে সোচ্চার। তবে তার প্রাথমিক মনোনয়নে খুশি নয় দলের আরেক নেতা সাহেদুজ্জামান সরকার কোয়েলের অনুসারীরা। শেষ পর্যন্ত সাহেদুজ্জামান স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তা হাসান রাজীব প্রধানের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী দলের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্য বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট আনোয়ারুল ইসলাম রাজু। ইতোপূর্বে করোনা মহামারী ও বন্যার সময়ে মানুষের পাশে থাকায় এলাকায় তিনি পরিচিত মুখ। এছাড়া অভ্যন্তরীণ বিরোধে বিএনপির ভোট ভাগাভাগি হলে সেটি তাকে বাড়তি সুবিধা এনে দেবে। জাতীয় পার্টির প্রার্থী হতে পারেন মসিউর রহমান রাঙ্গা। এবি পার্টির মনোনয়ন পেতে পারেন আবু রাইয়ান আসআরী রচি।
এছাড়া ভোটের মাঠে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের ফজলুল করীম শাহারীয়ার, খেলাফত মজলিসের আবুল কাশেম। নানান রকম সামাজিক কাজে জনগণের মধ্যে আলোচনায় এসেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী তুরস্কপ্রবাসী শিহাব আহমেদ।
লালমনিরহাট-২ (কালীগঞ্জ-আদিতমারী)
এখানে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী দলের জেলা কমিটির সহ-সভাপতি রোকন উদ্দিন বাবুল। তবে তার প্রাথমিক মনোনয়নে ক্ষুব্ধ তারই চাচাতো ভাই কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলমের অনুসারীরা। শেষ পর্যন্ত জাহাঙ্গীর স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করলে বা জোরালোভাবে ধানের শীষের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে বিএনপির জন্য সমীকরণ বদলে যেতে পারে।
জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী দলের জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট ফিরোজ হায়দার লাভলু। জাতীয় পার্টির মনোনয়ন পেতে পারেন দলটির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এলাহান উদ্দিন। এনসিপির প্রার্থী হতে পারেন রাসেল আহমেদ। জনতার দলের চেয়ারম্যান শামীম কামাল দলটির প্রার্থী হতে পারেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তরুণ উদ্যোক্তা মমতাজ আলী শান্তর নাম শোনা যাচ্ছে। নেতাকর্মীদের নিয়ে এলাকা চষে বেড়াচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
লালমনিরহাট-৩ (সদর)
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু। জেলার অন্য দুই আসনের মতো এখানে বিএনপিতে উল্লেখযোগ্য কোনো বিদ্রোহী না থাকায় কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছেন তিনি। তিস্তা বাঁচাও আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে তিস্তাপারে ৪৮ ঘণ্টার কর্মসূচিতে লাখো জনতার সমাগমের ঘটনায় তার রাজনৈতিক ক্যারিশমার বিষয়টি সামনে এসেছে।
জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী দলের জেলা আমীর অ্যাডভোকেট আবু তাহের। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হতে পারেন মোকছেদুল ইসলাম। এলাকাজুড়ে ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। তিনজন প্রার্থীই নেতাকর্মীদের নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটে বেড়াচ্ছেন।