আওয়ামী লীগের রাজনীতির আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম। শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) মাগুরা নতুন বাজার চঞ্চল গোসাই এর আশ্রম পরিদর্শন কালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা, গণহত্যা ও গুমের রাজনীতির কারণে দলটি সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া। এক সময় না এক সময় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে দেশে ফিরতেই হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগের রাজনীতির ভবিষ্যৎ আমি কোথাও দেখি না। জনগণের কাছে তাদের আর কোনো নৈতিক যোগ্যতা নেই।
তিনি বলেন, ভুল করলে স্বীকার করতে হয়, ক্ষমা চাইতে হয়, অনুতপ্ত হতে হয় এটাই রাজনীতির ন্যূনতম শিষ্টাচার। কিন্তু ১৭ মাস পেরিয়ে গেল, আওয়ামী লীগের কেউ একবারও বলেনি-আমরা ভুল করেছি।
প্রেসসচিব বলেন, আওয়ামী লীগ শাসনামলে দেশে অসংখ্য মানুষ খুন ও গুম হয়েছে। অথচ এসব নির্মম ঘটনার জন্য দলটির নেতৃত্ব আজও অনুশোচনা প্রকাশ করেনি। তারা কখনো বলেনি আমরা ভুল করেছি, এটা ঠিক হয়নি। বরং তারা আজও নির্লজ্জভাবে মিথ্যা প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে বলেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, যারা দেশের জন্য আন্দোলন করেছে, লাখ লাখ ছাত্র-জনতা তাদের জঙ্গি বলে গালি দেওয়া হয়েছে। এই বক্তব্য শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো বিশ্বকে জানিয়ে দিচ্ছে যে এরা আন্দোলনকারীদের হত্যা করতে চায়। এমন রাজনীতিকে বাংলাদেশের মানুষ কেন গ্রহণ করবে? কোথাও করবে না।
আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীদের প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, তারা বিদেশে বসে আজও ভুল স্বীকার না করে উল্টো বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছেন। ১৭ মাস সময় ছিল আত্মসমালোচনা করার। সেই সময় তারা নষ্ট করেছে। এখন যদি এসে বলে আমরা ভুল করেছি তাহলেও দেরি হয়ে গেছে। নমিনেশন পর্যন্ত হয়ে গেছে, তাদের সময় শেষ।
তিনি আরও বলেন, যে দল ভুল বোঝে না, ক্ষমা চাইতে জানে না, জনগণের রক্তের দায় স্বীকার করে না। সেই দলের জন্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর কোনো জায়গা নেই।