কুড়িগ্রামের ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ায় পৌষের হাড়কাঁপানো শীতে কাবু হয়ে পড়েছে জেলার জনজীবন। তাপমাত্রা কমায় ঠান্ডা বাতাসে বেড়েছে শীতের তীব্রতা। কনকনে ঠান্ডায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। ঘন কুয়াশা ও তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষজন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ৬টায় জেলার রাজারহাট আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
সদর উপজেলার ভোগডাঙ্গা এলাকার দিনমজুর আব্দুল মালেক বলেন, আগে সকাল ৮ টার মধ্যে কাজে বের হতাম কিন্তু এখন এমন ঠান্ডা ১০টার পরও বের হওয়া যায় না। এভাবে ঠান্ডা থাকলে আমরা যারা গরীব মানুষ আছি তাদের অবস্থা খুব খারাপ হবে। কাজ ঠিকমতো করতে না পারলে সংসার চালাবো কীভাবে।
একই এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, সকাল ১০টা পর্যন্ত কুয়াশা থাকে, পরে কুয়াশা কমলেও ঠান্ডা কমে না। ঠান্ডায় মাঠে কাজ করা খুব কষ্টকর হয়ে গেছে।
সন্ধ্যার পর থেকে সকাল পর্যন্ত চারদিক ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকছে। কুয়াশার ঘনত্ব বেশি থাকায় যানবাহনগুলো ধীরগতিতে চলাচল করছে।
অটো চালক মাইদুল ইসলাম বলেন, রাস্তায় সামনে কিছুই দেখা যায় না। খুব সাবধানে গাড়ি চালাতে হচ্ছে। দিনের বেলাতেও লাইট জ্বালিয়ে গাড়ি চালাতে হয় কিন্তু এভাবে কুয়াশা আর ঠান্ডা বাড়তে থাকলে গাড়ি চালানো খুব রিস্ক হবে আমাদের।
এদিকে কুড়িগ্রামের নয়টি উপজেলায় শীতার্ত মানুষের জন্য জেলা প্রশাসকের দুর্যোগ ও ত্রাণ শাখা থেকে বরাদ্দ করা হয়েছে মোট ২২ হাজার কম্বল। এর মধ্যে ১৩ হাজার কম্বল এসেছে জেলা প্রশাসনের বরাদ্দে, ৭ হাজার ৫০০ কম্বল প্রধান উপদেষ্টার বরাদ্দে ও ১ হাজার ৫০০ কম্বল আগের বরাদ্দ থেকে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ঘন কুয়াশার কারণে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য কমে গিয়ে শীতের অনুভূতি আরও বাড়তে পারে।