চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় সড়কে ইয়াবার একটি বড় চালান সহ পুলিশের হাতে ধরা পড়েন পুলিশের উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিনজন। আটকের পর তাদের পরিচয় গোপন রেখে মামলা করে আদালতে পাঠানো হয়। ঘটনায় জড়িত এই মাদককারবারিকে চাকরি ও বিভাগীয় তদন্ত থেকে রক্ষা করতে পুলিশের রহস্যজনক ভূমিকা জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার দিন জব্দকৃত চালানের পরিমাণ ছয় হাজার পিসের চেয়েও বেশি ছিল। তবে প্রকৃত তথ্য আড়াল করে নামমাত্র চালান দেখিয়ে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মাদকের একটি অংশ ভাগবাটোয়ারা করে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও ওই পুলিশ কর্মকর্তার পরিচয় প্রকাশ করতে পারেনি পুলিশ।
সূত্র মতে, ওই পুলিশ কর্মকর্তার ফেসবুক প্রোফাইলে পুলিশের এসআইয়ের পোশাক পরিহিত ছবি রয়েছে। তার ফেসবুক বন্ধু তালিকায় চট্টগ্রাম নগর ও জেলায় কর্মরত একাধিক পুলিশ পরিদর্শক, উপপরিদর্শক ও সহকারী উপপরিদর্শক রয়েছেন। তিনি ২০১৪-১৫ সালে চট্টগ্রাম নগরীর পতেঙ্গা থানায় কর্মরত ছিলেন। এর আগে আকবর শাহ থানাতেও দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা গেছে।
১৯ ডিসেম্বর রাত পৌনে ১০টার দিকে মীরসরাই পৌরসভার কলেজ রোড সংলগ্ন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ইয়াবার চালান সহ তিনজনকে আটক করে পুলিশ। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ছয় হাজার পিস ইয়াবা ও একটি কালো রঙের এক্স-ফিল্ডার গাড়ি জব্দ করা হয়। পরদিন তাদের আদালতে হাজির করা হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। বর্তমানে তারা চট্টগ্রাম কারাগারে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার পশ্চিম মুরাদপুর এলাকার মো. নুর সোলেমান (৪২), বাঁশবাড়িয়া এলাকার সুমন দাশ (৪৬) ও চট্টগ্রাম নগরীর আকবর শাহ থানার পূর্ব ফিরোজশাহ কলোনির মো. ইব্রাহিম বাবলা (৪০)। আটকদের মধ্যে মো. নুর সোলেমান (৪২) পুলিশের এসআই বলে অভিযোগ।
মামলার বিবরণে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চালকের সিটের নিচ থেকে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৮ লাখ টাকা। এ ছাড়া মাদক বিক্রির কাজে ব্যবহৃত ডিজিটাল স্কেল, গণনার সরঞ্জাম ও টর্চলাইট জব্দ করা হয়। পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা ইয়াবা বিক্রির উদ্দেশ্যে চট্টগ্রাম থেকে কুমিল্লা যাচ্ছিলেন।
এ ঘটনায় মীরসরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাফিন ইসতিয়াক রুবেল বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ৩৬(১) সারণির ১০(গ), ৩৮ ও ৪১ ধারায় মামলা করেন।
এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও মীরসরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলাউদ্দিন বলেন, বিষয়টি আমিও শুনেছি। অফিসিয়ালি আমরা চিঠি দিয়েছি। তবে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মীরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। এই মুহূর্তে কিছু বলা সম্ভব নয়। পরে প্রতিবেদককে থানায় এসে তথ্য নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন তিনি।