সিরাজগঞ্জে চলতি শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) জেলায় তাপমাত্রা নেমে এসেছে সর্বনিম্ন ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। ঘন কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ার কারণে সূর্যের দেখা মিলছে না। এতে জনজীবন চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে।
পৌষের মাঝামাঝিতে হাড় কাঁপানো শীতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। বিশেষ করে, যাত্রী সংকটে পড়েছেন রিকশা ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানচালকরা। শীতের কারণে শহরের রাস্তায় মানুষের চলাচলও তুলনামূলক কম।
রিকশাচালকরা জানান, কয়েকদিন ধরে তীব্র শীত থাকলেও শনিবার সকালে কুয়াশার সঙ্গে শীতের প্রকোপ আরও বেড়েছে। এতে কাজ প্রায় বন্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাটারিচালিত রিকশাচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘সকাল থেকে বসে আছি, কোনো ভাড়া পাচ্ছি না। এভাবে চলতে থাকলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়বে।’
বাঘাবাড়ী আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল জানান, শনিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন। এ অবস্থাকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
তাড়াশ কৃষি আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘন কুয়াশার সঙ্গে হিমেল হাওয়াও বইছে, যে কারণে শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে।’
এদিকে প্রচণ্ড শীতের কারণে হাসপাতালে ঠাণ্ডাজনিত রোগীর চাপ বাড়ছে। সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আকিকুন নাহার জানান, শিশু ও বয়স্করা নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, জ্বরসহ বিভিন্ন ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। তিনি শীত মৌসুমে শিশু ও বৃদ্ধদের প্রতি বিশেষ যত্ন ও সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন।