মেহেরপুরে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীসহ মোট পাঁচজনের প্রার্থিতা বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শেষে এ তথ্য জানান মেহেরপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. সৈয়দ এনামুল কবীর।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মেহেরপুরের দুটি সংসদীয় আসনে মোট ১২ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। এর মধ্যে মেহেরপুর-১ আসনে দাখিল করা নয়টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে পাঁচটি বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান, বিএনপি নেতা আমিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রোমানা আহমেদ, এনসিপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সোহেল রানা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মহাবুল ইসলাম মবু।
অন্যদিকে মেহেরপুর-১ আসনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মাসুদ অরুন, জামায়াতে ইসলামীর মাওলানা তাজ উদ্দিন খান, জাতীয় পার্টির আব্দুল হামিদ এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমানকে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্রগুলোর ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের ত্রুটি ও অনিয়ম পাওয়া গেছে। অ্যাডভোকেট কামরুল হাসানের হলফনামায় মামলার তথ্য না থাকা, প্রস্তাবকারীর তথ্য অসম্পূর্ণ, দলীয় মনোনয়ন ও অঙ্গীকারনামা না দেওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। আমিরুল ইসলামের ক্ষেত্রেও দলীয় মনোনয়ন ও অঙ্গীকারনামা না থাকায় প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মহাবুল ইসলামের ভোটার সমর্থন, হলফনামা, আয়কর সংক্রান্ত তথ্যের গরমিল এবং মামলার তথ্য গোপনের অভিযোগে মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এনসিপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সোহেল রানার মনোনয়নপত্রে নির্ধারিত ২০ নম্বর স্বাক্ষর না থাকা এবং হলফনামায় আয়করের তথ্য ভুল থাকায় প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করা হয়। রোমানা আহমেদের ক্ষেত্রে ভোটার তালিকা সংযুক্ত না করা, টিআইএন সনদ না দেওয়া, স্বামীর নাম সঠিকভাবে উল্লেখ না করা, হলফনামায় মামলার তথ্য গোপনসহ একাধিক ত্রুটির কথা উল্লেখ করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, বিদ্রোহী প্রার্থী রোমানা আহমেদ শুক্রবার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
এদিকে মেহেরপুর-২ আসনে বিএনপি, জামায়াত ও জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থীদের যাচাই-বাছাইয়ের ফলাফল শনিবার বিকাল পাঁচটার দিকে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যাচাই-বাছাই কার্যক্রমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী, তাদের প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীরা উপস্থিত ছিলেন।