সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার মাটিকোড়া গ্রামের আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী আল্পনা খাতুনের ২০২১ সালে সিজার অপারেশনের মাধ্যমে দ্বিতীয় সন্তানের জন্ম হয়েছিল। কিন্তু, সেসময় ভুলবশতঃ আল্পনার পেটে রয়ে গিয়েছিল একটি কাঁচি। ফলে, অপারেশনের পর থেকেই ওই নারীর পেটের যন্ত্রণা বাড়তে থাকে, যা পরবর্তীতে অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছায়। পরে ফের অপারেশনের মাধ্যমে ওই কাঁচি বের করা হয়।
ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন এই ঘটনায় উল্লাপাড়া পৌর শহরের শ্যামলীপাড়া এলাকার কেয়া হসপিটাল অ্যান্ড কনসালটেন্ট সেন্টারকে দায়ি করেছেন, যেখানে তার স্ত্রীর সিজার অপারেশন হয়েছিল।
ভুক্তভোগী আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘২০২১ সালের ১৩ আগস্ট আমার স্ত্রী আল্পনা খাতুনকে সিজারের জন্য কেয়া হসপিটালে নিয়ে যাই। সিজারের পর ব্যথা বাড়তে থাকে, কিন্তু হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, দ্বিতীয় সন্তান হওয়ার কারণে এই ব্যথা হতে পারে। তবে কিছুদিন পরেও ব্যথা এবং বমি বাড়তে থাকে। আমরা গ্রাম্য ডাক্তারদের কাছে চিকিৎসা নিতে থাকি, কিন্তু কোনো উন্নতি হয়নি। অবশেষে গত ১১ ডিসেম্বর আল্পনা খাতুনকে খাজা ইউনুস আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে এক্সরে করে জানা যায় যে, তার পেটের ভেতরে একটি কাঁচি রয়ে গেছে। এরপর চিকিৎসকরা অপারেশন করে কাঁচিটি বের করেন।’
এই ঘটনা জানার পর কেয়া হসপিটালের বিরুদ্ধে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আনোয়ার হোসেন ।
কেয়া হসপিটাল অ্যান্ড কনসালটেন্ট সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুবুল ইসলাম বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে সিজার হওয়া ওই রোগীর কোনো রেকর্ড আমাদের কাছে নেই।’
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল আমিন বলেন, ‘অভিযোগ এখনো আমার কাছে আসেনি। অভিযোগ আসলে আমরা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’