জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার যুগ্ম সমন্বয়কারী মাহফুজা খাতুন দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি চৌহালী উপজেলা বিএনপির বহিষ্কৃত আহ্বায়ক এবং চৌহালী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান।
জানা গেছে, গত ২৪ ডিসেম্বর এনসিপির সিরাজগঞ্জ জেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়কারীর কাছে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে সে সময় বিষয়টি গোপন রাখা হলেও রোববার (৪ জানুয়ারি) বিষয়টি জানাজানি হয়।
এর আগে গত ১৭ ডিসেম্বর এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম ৮৬ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেন। ওই কমিটিতে বিএনপি ও গণঅধিকার
পরিষদের সাবেক অন্তত দুই ডজন নেতাকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান দেওয়া হয়। কমিটি ঘোষণার পর থেকেই দলটির ভেতরে ও বাইরে নানা আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দেয়।
পদত্যাগের বিষয়ে মাহফুজা খাতুন বলেন, ‘আমাকে কোনো ধরনের পূর্ব অবগত বা সম্মতি ছাড়াই অনেককে এনসিপিতে পদ দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর আমি মানসিকভাবে আঘাত পেয়েছি। আমি বিএনপিতে ছিলাম,আছি এবং আগামীতেও বিএনপিতেই থাকব।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি থেকে আমাকে যেভাবে বহিষ্কার করেছে তা অবৈধ ও অগণতান্ত্রিক। এরপরও যতদিন বেঁচে আছি নিঃস্বার্থভাবে বিএনপির আদর্শ ও পতাকার নিচেই নিজেকে আবদ্ধ রাখতে চাই।’
মাহফুজার পদত্যাগকে ঘিরে সিরাজগঞ্জের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে এনসিপির নবগঠিত কমিটিতে বিএনপিঘনিষ্ঠ নেতাদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে যে বিতর্ক চলছিল। এই পদত্যাগ সেই বিতর্ককে আরও উসকে দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এনসিপির কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এবং ভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সম্মতি ছাড়াই পদ দেওয়ার অভিযোগ দলটির ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।