দলীয় নীতি ও সংগঠন পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগে নওগাঁয় ডা. সালেক চৌধুরী নামের এক বিএনপি নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার (৪ জানুয়ারি) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বহিষ্কারাদেশের কথা জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দলীয় নীতি ও সংগঠন পরিপন্থী কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাবেক সংসদ সদস্য ও নওগাঁ জেলাাধীন নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ডা. সালেক চৌধুরীকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বহিস্কৃত ডা. সালেক চৌধুরী জেলার নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও নওগাঁ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য। তাকে বহিষ্কারের একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করেছেন নওগাঁ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কেন্দ্র থেকে ডা. সালেক চৌধুরীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের চিঠি তারা পেয়েছেন।
প্রতিক্রিয়া ও বহিষ্কারের কারণ জানতে চাইলে সাবেক সংসদ সদস্য ডা. সালেক চৌধুরী মুঠোফোনে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি এখনো জানি না। আর যদি বহিষ্কার করে থাকে সেটা নিয়মের মধ্যে হয়নি। কারণ আগামী ২০ তারিখ পর্যন্ত সময় ছিল বিবেচনা করার। যদি আমি মনোনয়ন প্রত্যাহার না করতাম, তাহলে একটা কথা ছিল। আর যদি সত্যি সত্যি দল থেকে বহিষ্কার করে, তাহলে আমি নির্বাচন করব। কারণ আমার তো আর কোনো পথ নেই। কাজেই শেষ পর্যন্ত ভোটে লড়াই করব।’
অন্যদিকে বহিষ্কারের কারণ সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ না থাকলেও খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সদ্য বহিস্কৃত উপজেলা বিএনপির নেতা সালেক চৌধুরী নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর-সাপাহার-পোরশা) আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে মনোনয়ন না দিয়ে অন্য এক নেতা নিয়ামতপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমানকে দলীয়ভাবে মনোনীত করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। এ কারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন ডা. সালেক। রোববার ছিল মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের দিন। পরে বিএনপি থেকে সদ্য বহিস্কৃত এ নেতার মনোনয়ন বৈধ হিসেবে বিবেচিত হয়।
উল্লেখ্য, ডা. সালেক চৌধুরী নওগাঁ-১ (নিয়ামতপুর-সাপাহার-পোরশা) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ, ১৯৯৬ সালের সপ্তম ও ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বিএনপি থেকে বহিস্কৃত হলেন পরপর তিনবারের এই সংসদ সদস্য।