সিলেটে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এছাড়া দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি জেলাতেও এ ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত, মিয়ানমার, ভুটান ও চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় কম্পন অনুভূত হয়েছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটে এই কম্পন অনুভূত হয়। ইউরো-মেডিটেরিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (ইএমএসসি) ও আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.৪।
মার্কিন ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ সংস্থাসহ (ইউএসজিএস) একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে ছিল। এর কেন্দ্রস্থল ছিল ভারতের আসাম রাজ্যের ধিং শহর থেকে মাত্র ৪ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং আসামের রাজধানী গুয়াহাটি থেকে ৭৬ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সিলেট অঞ্চল এই কেন্দ্রের খুব কাছে হওয়ায় সিলেটে কম্পন তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে। জানা গেছে, সিলেট নগরীর জিন্দাবাজার, উপশহর, আম্বরখানা, টিলাগড়, শাহপরান থানা এলাকা ছাড়াও দক্ষিণ সুরমা, জৈন্তাপুর ও কোম্পানিগঞ্জ উপজেলায় ও কম্পন অনুভূত হয়েছে।
এদিকে কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানিয়েছে আজ মঙ্গলবার ভোরে একটি নয় দুটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এদিন নিজের ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে এ তথ্য জানান তিনি।
পোস্টে মোস্তফা কামাল পলাম লেখেন, একটি না দুটি ভূমিকম্প হয়েছে আজ ভোরে। পর পর দুটি ভূমিকম্পে কেঁপে উঠলো বাংলাদেশ ও ভারতের আসাম রাজ্য সোমবার ভোরে। আজ ভোরে বাংলাদেশে একটি ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভোর ৪টা বেজে ৪৭ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের সময় প্রথমে ৫.২ মাত্রার ও ৩০ সেকেন্ড পরে ভোর ৪ টা বেজে ৪৭ মিনিট ৫২ সেকেন্ডের সময় ৫.৪ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি সংঘটিত হয় ভারতের আসাম রাজ্যে।
তিনি উল্লেখ করেন, ভূমিকম্প দুটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের আসাম রাজ্যের রাজধানী গোয়াহাটির পাশে মরিগাও নামক স্থানে। আমেরিকান ভূ-তাত্ত্বিক অধিদপ্তর হতে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, ভূমিকম্পটির মান ছিল ৫.৪ মাত্রার। প্রথম ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৫ কিলোমিটার গভীরে ও দ্বিতীয় ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থলও ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩৫ কিলোমিটার গভীরে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যেহেতু ৫.৪ মাত্রার ভূমিকম্প একটি মধ্যম মানের ভূমিকম্প ফলে এর কারণে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় আফটার-শক ভূমিকম্পের আশঙ্কা করা যাচ্ছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কিংবা বাংলাদেশের উত্তর কিংবা পূর্ব পাশের যেকোন ফল্টে। ফলে বাংলাদেশের মানুষদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া যাচ্ছে।