প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অগ্নিকাণ্ড কিংবা দুর্ঘটনায় সবার আগে উদ্ধার কাজে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স। কিন্তু, সিরাজগঞ্জে সেই উদ্ধারকর্মীরাই এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।
দীর্ঘদিনের পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে সিরাজগঞ্জ সদর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দাপ্তরিক কার্যক্রম।
১৯৬১ সালে পাকিস্তান আমলে সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার ইলিয়াড ব্রিজের পাশে নির্মিত এই ফায়ার সার্ভিস ভবনটি বর্তমানে মারাত্মকভাবে জরাজীর্ণ। প্রায় ৬৪ বছরের পুরোনো একতলা ভবনের বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, কোথাও কোথাও বেরিয়ে এসেছে রড। ব্যারাক, গ্যারেজ ও অফিস কক্ষের দেয়াল ও পিলারেও ফাটল রয়েছে। বৃষ্টি হলেই রুমে পানি চুইয়ে পড়ে, যা ঝুঁকিকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনেই প্রায় ৪০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের আশঙ্কা, মাত্র ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হলেই ভবনটি ধসে পড়তে পারে। মাঝেমধ্যেই ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ায় সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়।
সিরাজগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের অফিসার শরিফুল ইসলাম বলেন, ভবনটি এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কোনোভাবে জোড়াতালি দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সিরাজগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুর রহমান জানান, ঝুঁকি নিয়েই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য গণপূর্ত বিভাগসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সদর ফায়ার স্টেশনকে দ্বিতীয় শ্রেণি থেকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করার প্রক্রিয়াও চলমান।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহমাদুল হাসান জানান, সরেজমিনে ভবনটি পরিদর্শন করে বিভিন্ন স্থানে ফাটল পাওয়া গেছে এবং এ বিষয়ে প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘প্রথম শ্রেণির জেলার জন্য প্রথম শ্রেণির ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অত্যন্ত প্রয়োজন।’
জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নতুন ফায়ার সার্ভিস ভবন নির্মাণ হলেও সদর উপজেলায় এখনো ৬৪ বছরের পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই ফায়ার সার্ভিসের সেবা দেওয়া হচ্ছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।