নওগাঁয় সিটবিহীন টিকিট নিয়ে বাকবিতণ্ডার জেরে এক বাসচালককে অফিসে ডেকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শ্যামলী রানী বর্মণের সম্পৃক্ততা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।
বুধবার (০৭ জানুয়ারি) দুপুরে নওগাঁ পুলিশ মিডিয়া গ্রুপের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, ঘটনার বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) জয়ব্রত পালকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জানুয়ারি সকালে সাপাহার থেকে রাজশাহীগামী ‘হিমাচল’ পরিবহনের একটি বাসে সিটবিহীন টিকিট কেটে যাত্রা করেন সহকারী পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মণের স্বামী ও কলেজ শিক্ষক জয়ন্ত বর্মণ। বাসটি দিঘার মোড় এলাকায় পৌঁছালে সুপারভাইজার যাত্রীচাপের কারণে তাকে নির্দিষ্ট সিট ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। এসময় জয়ন্ত বর্মণ নিজের পরিচয় দিয়ে আপত্তি জানান এবং সুপারভাইজারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন।
এক পর্যায়ে তিনি বাসচালক বাদলের সঙ্গে তুমুল বাকবিতণ্ডায় জড়ান। পরে ধানসুরা এলাকায় নেমে যাওয়ার সময় চালক ও সুপারভাইজারকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর ওই দিনই সহকারী পুলিশ সুপার শ্যামলী রানী বর্মণ ওই পরিবহন সংশ্লিষ্ট কয়েকজনকে ফোনে হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে রাতের দিকে বাসচালক বাদলকে বাসস্ট্যান্ড থেকে অফিসে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে চালকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয় এবং তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী চালক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টালে আলোচনা শুরু হলে বিষয়টি জেলা পুলিশের নজরে আসে। পুলিশ সুপার জানান, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।