কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডে (কেজিডিসিএল) তিন কর্মকর্তার সাম্প্রতিক পদোন্নতি নিয়ে প্রতিষ্ঠানজুড়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নিয়োগকালে সনদ জালিয়াতি, বয়সসীমা অতিক্রম, চাকরিরত অবস্থায় রাজনৈতিক পদে সক্রিয় থাকা, জুলাই বিপ্লবের ছাত্রদের বিরুদ্ধে অর্থ জোগান দেওয়া, গুরুতর ফৌজদারি মামলার বিচারাধীন থাকা এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও তাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে-বাইরে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
পদোন্নতি পাওয়া কর্মকর্তারা হলেন, কেজিডিসিএলের সহকারী ব্যবস্থাপক (সাধারণ) থেকে উপব্যবস্থাপক মো. ফারুক আহমদ, সহকারী প্রকৌশলী থেকে উপব্যবস্থাপক সৈয়দ মোরশেদ উল্লাহ ও সহকারী ব্যবস্থাপক (সাধারন) থেকে উপব্যবস্থাপক পদে কাউছার নুর লিটনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর সিনিয়র সিলেকশন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. সালাউদ্দিন মাসুদের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এই পদোন্নতি দেওয়া হয়।
উপব্যবস্থাপক মো. ফারুক আহমদ চাকরিতে বহাল থাকা অবস্থায় ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম সম্পাদক ছিলেন, যা সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা ১৯৭৯ এর পরিপন্থী। এ ছাড়া তার দাখিল করা মুক্তিযোদ্ধা সনদে গরমিল থাকায় ২০২৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) অফিস আদেশ জারি করে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। কিন্তু অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, বরং তাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। এদিকে ২০২৪ সালের ৩০ আগস্ট তার বিরুদ্ধে ছাত্রহত্যা মামলা রয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
উপব্যবস্থাপক সৈয়দ মোরশেদ উল্লাহ অভিযোগ অনুযায়ী, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ছাড়া ২০১০ সালে তিনি উপসহকারী প্রকৌশলী হিসেবে অস্থায়ী ভিত্তিতে যোগ দেন। যোগদানের সময় তার বয়স ছিল ৩০ বছর ৯ দিন। যা নির্ধারিত সীমার বেশি। বয়স জালিয়াতি ও নিয়োগে অনিয়ম থাকা সত্ত্বেও ২০১৩ সালে তাকে স্থায়ী করা হয়। ২০২০ সালের ২২ আগস্ট ২২ মধ্যরাতে দুদকের অনুসন্ধান চলমান থাকা অবস্থায় বিতর্কিত ৩৭ জন কর্মকর্তার পদোন্নতির তালিকায় তার নামও ছিল। এ ছাড়া ২০১৪ সালে চাকরিরত অবস্থায় তিনি পটিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদ লাভ করেন।
উপব্যবস্থাপক কাউছার নুর লিটন চাকরিতে থাকা অবস্থায় ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর তিনি রাঙ্গুনিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিত দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করেন না; নামমাত্র হাজিরা দিয়েই মাস শেষে বেতন ও ভাতা তুলে নেন। ফারুক-মোরশেদ সিন্ডিকেটের প্রধান হিসেবে প্রতিষ্ঠানে তার প্রভাব রয়েছে বলেও সহকর্মীদের অভিযোগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বয়সসীমা অতিক্রম, সনদ জালিয়াতি, রাজনৈতিক পদে সক্রিয় অংশগ্রহণ, ফৌজদারি মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা গোপন থাকার পরও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে, যা কেজিডিসিএলের সার্ভিস রুলস ও সরকারি চাকরির আচরণ বিধিমালা পরিপন্থী। এতে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও আইনের শাসন ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে কেজিডিসিএলের উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সালাউদ্দিন মাসুদ বলেন, ‘আমি তো শুধু অফিসিয়াল দায়িত্ব পালন করেছি। পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়ে একটি কমিটি রয়েছে। মন্ত্রণালয়, কোম্পানি এবং বাইরের কয়েকজন সদস্য নিয়ে ওই কমিটি গঠিত। তারাই মূলত পদোন্নতির জন্য সুপারিশ করেন। আমরা কেবল সেই সুপারিশ অনুযায়ী প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করি।’
জানতে চাইলে কেজিডিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌ. মো. সালাহউদ্দিনকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল দেওয়া হলে তিনি সংযোগ তোলেননি।