চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, যোগ্য ও মেধাবী প্রার্থীদের বাদ দিয়ে প্রভাবশালী মহলের সুপারিশে আত্মীয়স্বজন ও পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিতের আবেদন করা হলে বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। তবে অভিযোগ ও তদন্ত চলমান থাকা সত্ত্বেও শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) চাকরিপ্রার্থীদের ইন্টারভিউয়ের জন্য ঢাকায় ডেকেছে চউক।
এ নিয়ে প্রধান উপদেষ্টা, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান।
অভিযোগে বলা হয়, চউকের জনবল নিয়োগসংক্রান্ত বিষয়ে উচ্চ আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থাতেও নিয়োগ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। বিষয়টির সুরাহা চেয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তরে লিখিত আবেদন করেন মামলার বাদী হাবিবুর রহমান। আবেদনে তিনি আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত রাখার দাবি জানান।
হাবিবুর রহমানের অভিযোগের ভিত্তিতে রোববার (৪ ডিসেম্বর) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অনুবিভাগ–১ এর সহকারী সচিব আম্বিয়া সুলতানা চউক চেয়ারম্যানকে একটি পত্র পাঠান। পত্রে সাত কার্যদিবসের মধ্যে বিষয়টি তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, চউকের জনবল নিয়োগে প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত সিবিএ চুক্তি বাস্তবায়ন বিষয়ে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে, মহামান্য হাইকোর্টে আপিল রিট মামলা (নং–৩০৭০/২০২১) দায়ের করা হয়। ওই মামলায় নিয়োগ কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়, যা এখনো চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের ৩ জুলাই অনুষ্ঠিত চউকের ৪৬৫তম বোর্ড সভার ১১ নম্বর এজেন্ডায় সিদ্ধান্ত হয়, আদালতে বিচারাধীন মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের আইনি সুযোগ নেই ও আদালতের রায়ের আলোকে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
তবে এসব সিদ্ধান্ত ও আইনি প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর স্থানীয় গণমাধ্যমে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ শ্রম আইন–২০০৬ অনুযায়ী চউক ও সিবিএর মধ্যে সম্পাদিত দ্বিপাক্ষিক চুক্তির আলোকে ৩৩ শতাংশ কোটা বাস্তবায়নের মাধ্যমে কর্মচারীদের যোগ্য সন্তানদের চাকরি দেওয়ার যে অধিকার রয়েছে, তা বাতিল বা প্রত্যাহারযোগ্য নয়। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিভিন্ন রায়ের কথাও অভিযোগে তুলে ধরা হয়।
নিয়োগ নিয়ে অভিযোগ ও তদন্ত চলমান থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রামের পরিবর্তে ঢাকায় ইন্টারভিউ নেওয়ার সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছেন অভিযোগকারীরা। এ বিষয়ে আবারও প্রধান উপদেষ্টা, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা ও দুদকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন হাবিবুর রহমান।
তিনি জানান, আইন সবার জন্য সমান। বোর্ড সভার সিদ্ধান্ত ও আদালতে বিচারাধীন মামলা উপেক্ষা করে নিয়োগ কার্যক্রম চালানো আইনপরিপন্থী। এ কারণেই আমরা নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিতের আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু এসবের তোয়াক্কা না করে ৯ জানুয়ারি ঢাকায় ইন্টারভিউয়ের আয়োজন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন) নুর উল্লাহ নুরী বলেন, ‘নিয়োগ বিষয়ে কোনো ধরনের স্থগিতাদেশ নেই। আমার জানা মতে, এখানে আইন অমান্য করে কোনো কিছুই করা হচ্ছে না।’