জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ পারভেজের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে সরকারি কাজে ব্যবহৃত গাড়ি নিয়ে নিজ কর্ম এলাকা ত্যাগ করে তিনি পার্শ্ববর্তী জেলা বগুড়ায় মমইন রিসোর্টে প্রমোদভ্রমণে গিয়েছেন।
সূত্র মারফত জানা গেছে, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ পারভেজের জন্য বরাদ্দকৃত মিতসুবিশি এল-২০০ ডাবল কেবিন পিকআপ মডেলের সরকারি গাড়ি (নম্বর: জয়পুরহাট ঠ-১১-০০৩৪) সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে মমইন হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে প্রবেশ করে। পরে রাত ৯টার পর গাড়িটি সেখান থেকে বের হয়ে জয়পুরহাটের উদ্দেশে রওনা দেয়।
একদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী আচরণবিধি বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশনের কঠোর নির্দেশনা জারি রয়েছে। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা যখন নিজেরাই আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রমোদভ্রমণে বের হন, তখন তা জনমনে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
অন্যদিকে সরকারি বিধি অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া সরকারি যানবাহন ব্যক্তিগত কাজে কিংবা জেলার বাইরে ব্যবহার করা আইন ও শৃঙ্খলাবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মহলের মতে, এ ধরনের অভিযোগ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ পারভেজ নাগরিক প্রতিদিনকে বলেন, ‘হ্যাঁ আমি বগুড়া গিয়েছিলাম পৌরসভার কিছু জিনিসপত্র কেনার জন্য। সেখান থেকে ফেরার পথে মমইনে একটু ড্রপ নিয়েছিলাম। সেখানে আরও কয়েকজন ভূমি কর্মকর্তাও ছিলেন।’
এসিল্যান্ড তার জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি গাড়ি নিয়ে পৌরসভার কাজে নির্বাচনের সময় জেলার বাইরে যেতে পারেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমিতো ইউএনও স্যারকে বলে দাপ্তরিক কাজেই গিয়েছিলাম। অফিসে আসেন সামনাসামনি কথা হবে।’
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সানজিদা চৌধুরী বলেন, ‘পৌরসভার একটি প্রকল্পের লাইট ও প্রজেক্টর কেনার জন্য তিনি বগুড়া গিয়েছিলেন, সেটা আমি জানি। অফিশিয়াল কাজে গিয়ে যদি আসার পথে ব্যক্তিগত কাজে কোথাও দাঁড়ায় বা যায় সেটার দায়বদ্ধতা তার। এটার জন্য তো আর আমার জবাবদিহিতা করার কথা নয়।’
এ ছাড়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক বিপুল কুমার বলেন, ‘তিনি আসলে কী বিষয়ে গিয়েছিলেন সেটি আগে জানতে হবে। আমি বিষয়টি জেনে আপনাকে জানাব।’
এদিকে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।