আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের বুকিং মূল্য কমায় চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় পাইকারি কেন্দ্র খাতুনগঞ্জে ভোজ্যতেলের সরবরাহ বেড়েছে। দুই সপ্তাহে পাম অয়েল ও সয়াবিন তেলের দাম মণপ্রতি কমেছে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা পর্যন্ত। তবে পাইকারি পর্যায়ে দাম কমলেও খুচরা বাজারে এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোক্তারা।
ভোক্তাদের অভিযোগ, পাইকারি বাজারে দাম সামান্য বাড়লেই খুচরা বিক্রেতারা তা কয়েকগুণ বড় করে দেখান। কিন্তু দাম কমলে বাজারে তেমন কোনো প্রভাব পড়ে না। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের তদারকি বাড়ানোর দাবি তুলেছেন তারা।
পাম-সয়াবিন মণপ্রতি একশ কম
রমজান মাস ঘিরে সাধারণত নিত্যপণ্যের দাম বাড়ে। কিন্তু এবার দুই মাস আগে থেকেই ভোজ্যতেলের পাইকারি দর কমতির দিকে। দুই সপ্তাহ আগে ৩৭.৩২ কেজি ওজনের প্রতি মণ পাম অয়েল বিক্রি হয়েছে ৫ হাজার ৮৮০ টাকায়। বর্তমানে সেটি কমে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭৮০ টাকায়। সয়াবিন তেলের মণদরও কমেছে। আগে যেখানে ছিল ৬ হাজার ৫০০ টাকা, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৪০০ টাকা।
ডিও ব্যবসা
খাতুনগঞ্জের বেশ কিছু তেল ব্যবসায়ী জানান, বহু বছর ধরে এখানে পণ্য লেনদেনে ডেলিভারি অর্ডার (ডিও) ব্যবস্থার প্রচলন রয়েছে। কোনো আইনি স্বীকৃতি না থাকলেও ডিও–স্লিপের হাতবদলেই লাখ লাখ টাকার লেনদেন হয় প্রতিদিন। মণপ্রতি দশ থেকে বিশ টাকা ওঠানামাই খুচরা বাজারে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে।
বাজার-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোম্পানিগুলো অনেক সময় বেশি দামে ডিও কিনে পণ্যের দাম বাড়ার অপেক্ষায় থাকে। তখন পণ্যের চালান এলেও তারা ডেলিভারি দিতে গড়িমসি করে। ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়। রমজান সামনে রেখে তেল ও চিনির মতো পণ্যে এ ধরনের কারসাজি বাড়ে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
শিল্পগোষ্ঠীর প্রভাব
বাজার নিয়ন্ত্রণে বড় শিল্পগ্রুপগুলোর ভূমিকা উল্লেখ করে ব্যবসায়ীরা বলেন, ভোজ্যতেলের দাম অনেকটাই নির্ভর করে তাদের সিদ্ধান্তের ওপর। প্রতি বছর রমজানের আগে দাম বাড়লেও এবার কমেছে। তবে এ দাম ধরে রাখতে প্রশাসনের নিত্য তদারকি জরুরি।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, রমজান ঘিরে নিত্যপণ্যের দাম বাড়া স্বাভাবিক। কিন্তু এবার পাইকারি বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমেছে। সমস্যা হচ্ছে, খুচরা বাজারে এর কোনো প্রতিফলন নেই। প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানো দরকার।