সংকটমুক্ত সরবরাহ শৃঙ্খলা, বাজারে স্বস্তি ফিরছে; তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে তৎপর সরকার
পটভূমি: উত্তপ্ত ছিল পুরো অঞ্চল
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সামরিক উত্তেজনা ও ড্রোন-ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চলছিল। এতে হরমুজ প্রণালী ও পারস্য উপসাগরের জাহাজ চলাচল বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়। বিশ্বের দৈনিক ব্যবহৃত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই রুট দিয়ে যায়। ফলে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যাহত হলে বাংলাদেশসহ আমদানিনির্ভর দেশগুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা: বিশ্ববাজারে ইতিবাচক প্রভাব
ইরান ও ইসরায়েল পরস্পরকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দেয় গত সপ্তাহে। এর পরপরই
বাংলাদেশের জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন
যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে দেশের পেট্রোলিয়াম আমদানি বিল বাড়ত। যুদ্ধবিরতিতে এখন কিছুটা আশ্বাস মিলেছে।
বাংলাদেশে সরবরাহ পরিস্থিতি ও মজুত
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে
বিপিসি চেয়ারম্যান বলেন,
আমাদের স্ট্র্যাটেজিক স্টোরেজে যথেষ্ট মজুত রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার স্বাভাবিক থাকলে দামও স্থিতিশীল থাকবে।
অর্থনীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব এড়ানো গেছে
বাংলাদেশ বছরে প্রায় ৬৫ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করে, যার ৯৫ শতাংশই বিদেশনির্ভর। যুদ্ধের কারণে পরিবহন খরচ বেড়ে গেলে তা সরাসরি বিদ্যুৎ উৎপাদন, কৃষিকাজ ও পরিবহন খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন
সরকারের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা
সরকার ইতোমধ্যে বিকল্প সরবরাহ উৎস চিহ্নিত করেছে। জরুরি প্রয়োজনে ভারত, চীন ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি বাড়ানোর জন্য চুক্তি আছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব জানান, “বিশ্ব পরিস্থিতি মনিটর করছি। আপাতত কোনো বিপদ নেই, তবে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক আছি।”