ভোলার লালমোহন উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে উভয় দলের প্রায় ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে।
আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত চারজনকে উন্নত চিকিৎসার সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে বিএনপি ও জামায়াত।
শুক্রবার (০৯ জানুয়ারি) রাতে লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের রায়চাঁদ বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) নারী কর্মী মাকসুদ বেগমের নেতৃত্বে কয়েকজন নারী কর্মী রায়চাঁদ বাজার এলাকায় গণসংযোগে করছিলেন। এ সময় তারা স্থানীয় বিএনপি কর্মী মো.রুবেলের বাড়িতে গেলে রুবেল ও কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী নির্বাচনী প্রচারণায় তাদেরকে বাঁধা দেন এবং গালাগালি করেন।
পরে ওই নারী কর্মীরা সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। তাদের মধ্যে মাকসুদা বেগম তার স্বামী ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী মো.জসিমকে বিষয়টি জানালে তিনি মোবাইল ফোনে কল করে অভিযুক্ত বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তাকেও গালাগালি করা হয়।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এদিন বিকেলে দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবালসহ উভয় দলের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে যান। এসময় আলোচনার মাধ্যমে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি শান্ত হলেও রাতে ফের সংঘর্ষে জড়ান উভয় দলের সমর্থকরা।
পরে খবর পেয়ে যৌথবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে তাদের মধ্যে চারজনকে ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়।
এ বিষয়ে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের সমর্থকরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করার সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা পেছন থেকে পূর্বপরিকল্পিত অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের হামলায় আমাদের ১০-১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আমরা আইনানুগ নেব এবং তা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’
অন্যদিকে লালমোহন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুল অভিযোগ করে বলেন, ‘জামায়াতের সহায়তায় বিডিপি নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে লালমোহনের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। আওয়ামী লীগ ও জামায়াত সংশ্লিষ্ট ক্যাডাররা বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। তাদের হামলায় আমাদের ১২ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছে। আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব।’
এ বিষয়ে লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. অলিউল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল জুমার নামাজের আগে জামায়াতের নারী কর্মীদের দাওয়াতি কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করি। তবে সন্ধ্যার পর রায়চাঁদ বাজারে তারা সংঘর্ষে জড়ান। আহতরা চিকিৎসাধীন রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে আছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’