জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস বলেছেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘদিনের বঞ্চনা আর অত্যাচার নির্যাতনের ফলে। সবাই যার যার অবস্থান থেকে সচেতন হলে, নিজেদের অধিকার আদায়ে কথা বললে এদেশে কখনো আর কোন স্বৈরাচারী শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে দাঁড়াতে পারবে না।’
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রক্তদান সংগঠন সন্ধানী কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ ইউনিটের পুনর্মিলনী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করেন আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া দেশের জন্য যে ত্যাগ করেছেন তা বিরল দৃষ্টান্ত। রাজপথে তার দৃঢ় কণ্ঠস্বর এবং অন্যায়ের সঙ্গে আপোষ না করার ফলে আজ আমরা স্বৈরাচারমুক্ত দেশ গড়তে পেরেছি।’
তিনি বলেন, ‘শহীদ আবু সাঈদের বিশ্বাসে ভরা বুক, মুগ্ধের তৃষ্ণার্তদের পানি খাওয়াতে খাওয়াতে জীবন বিলিয়ে দেওয়া, ওয়াসিমের আত্মত্যাগের মূল্যায়ন আমাদের করতে হবে। জুলাইকে হেরে যেতে দেওয়া যাবে না।
এ দেশের মানুষ নিজেদের অধিকার রক্ষায় বারবার রক্ত জড়িয়েছে। আমরা পরিবর্তনের কথা বলি, কিন্তু এ পরিবর্তন একদিনে সম্ভব না। যার যার অবস্থান থেকে পরিবর্তন দরকার। পুরো বাংলাদেশের কথা না ভেবে নিজের দিকটা ফোকাস করতে হবে। নিজের কাজটা সততার সঙ্গে সঠিকভাবে করলেই পরিবর্তন সম্ভব।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশপ্রেম তখনই জাগ্রত হয় যখন রাষ্ট্র দেশপ্রেমকে মূল্যায়ন করবে। ভোটের অধিকার মানে আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকেই দেব। এটা প্রতিটা নাগরিকের গণতান্ত্রিক অধিকার। যে অধিকার গত দীর্ঘ সময় কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তরুণ প্রজন্মকে বলতে চাই ভোটের মর্মটা আমাদের বুঝতে হবে। যারা সাস্থ্যখাত, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি স্থাপন করবে, পাহাড় সমতলে সকলকে বাংলাদেশী প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসবে, যারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, দেশের জন্য যাদের কিছু করার ক্ষমতা আছে তাদেরই ভোট দেবেন। সেটা আপনার বিবেকের পর্যবেক্ষণের নির্ধারণ করবেন।’
ড. সায়মা বলেন, ‘আমি গর্ববোধ করি আমি কুমিল্লার মেয়ে। কুমিল্লা যতোবারই পা রাখি ততোবারই মনে হয় আমি নিজ ঘরে ফিরে এসেছি।’
পূনর্মিলনী অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ ডাঃ মির্জা মোহাম্মদ তাইয়্যেবুল ইসলামের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন সন্ধানী কুমেক ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক আসিফ মোস্তফা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া, কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী আবু, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম, সিনিয়র সহ সভাপতি আমিরুজ্জামান ভুঁইয়া, মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজুদ্দিন রিয়াজ।
এছাড়াও বক্তব্য দেন- কুমেকের উপাধ্যক্ষ ডাঃ সজীবুর রশিদ, ড্যাব কুমেক শাখার সভাপতি ডাঃ মিনহাজুর রহমান তারেক, ডা. রাশেদুজ্জামান রাজীব, ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডা. আশরাফুল মতিন সাগর, সাবেক সন্ধানিয়ান ডা. কাজী সিফায়াত ইমাম, ডা. সাঈদুর রহমান প্রিয়ম, ডা. মাজহারুল ইসলাম, ডা. শুভেচ্ছা আহমেদ কথা, ডা. জিহাদুল ইসলাম, ডা. চিশতি তানহার বখত, ডা. আরিফ হায়দার, ডা. আবু খালেদ ইকবাল প্রমুখ।