রাজশাহীতে সেনাবাহিনীর হাতে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার হয়েছে বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের মহানগর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি চাঁন সওদাগর। এসময় তার আরও দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে সেনাবাহিনী সদস্যরা এ তিনজনকে আটকের পর নগরের রাজপাড়া থানায় হস্তান্তর করেন।
গ্রেপ্তার চাঁন সওদাগর নগরীর নতুন বিলশিমলা এলাকার বাসিন্দা। তার সঙ্গে গ্রেপ্তার দুজন হলেন, একই এলাকার বাসিন্দা মুরাদ আলী (২৮) ও বিদ্যুৎ (৩৭)।
চাঁন সওদাগরের নামে ১৮টি মামলা রয়েছে। এরমধ্যে পাঁচটি মারামারি, দুইটি অস্ত্র, দুইটি বিস্ফোরক ও সরকারি সম্পদ বিনষ্টের দুটি মামলার আসামি তিনি। এছাড়া একটি করে মাদক, দস্যুতা, ডাকাতির প্রস্তুতি গ্রহণ, চুরি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলার আসামি তিনি।
গত জুলাই মাসে রাজশাহীতে ১২৩ জন চাঁদাবাজের একটি তালিকা ছড়িয়ে পড়ে। পরে জানা যায় তালিকাটি তৈরি করেছিল পুলিশ। এই তালিকায় চান সওদাগরসহ ছয়জনের নামের পাশে তাদের রাজনৈতিক পরিচয় হিসেবে জামায়াতে ইসলামী লেখা ছিল।
জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগরের সাংগঠনিক সেক্রেটারি জসিম উদ্দিন সরকার বলেছেন, চাঁন সওদাগর আমাদের মিছিল-মিটিংয়ে আসত। কিন্তু দলে তার কোনো পদ-পদবী নেই।
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের রাজশাহী মহানগরের সভাপতি অধ্যাপক আব্দুস সালাম জানান, বিগত সরকারের আমলে জেলে থাকা অবস্থায় চান সওদাগরের সঙ্গে আমার পরিচয়। সে আমাকে সম্মান করত। তখন শুনেছিলাম, বর্ণালী মোড়ে তার চায়ের দোকান আছে। কিছুক্ষণ আগে মহানগর শিবিরের সাবেক সভাপতি খাইরুল ইসলামকে একটা বিষয়ে ফোন করেছিলাম। তার কাছে শুনলাম যে চান সওদাগরকে সন্দেহমূলক আটক করা হয়েছে এবং তাকে পেটানো হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনে অভিযুক্ত চাঁন সওদাগরের কোনো পদ-পদবী নেই। আমাদের সংগঠনের ওয়ার্ড পর্যায়ে কোনো কমিটিও নেই। তবে থানা কমিটি আছে। থানা কমিটির অধীনে বিভিন্ন ওয়ার্ডে থাকা ট্রেড ভিত্তিক কিছু কমিটি আছে।
রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল মালেক বলেন, সেনাবাহিনী চাঁন সওদাগরসহ তিনজনকে আটক করে থানায় দিয়েছে। তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মামলা হবে। রোববার তাদের আদালতে তোলা হবে।