আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত এলপিজিবাহী ট্যাংকার জাহাজ ‘ক্যাপ্টেন নিকোলাস’ সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে অবগত না করেই বঙ্গোপসাগর থেকে উধাও হয়ে গেছে। মামলার নিষ্পত্তি হলেও জাহাজটি কখন, কীভাবে বাংলাদেশ ছেড়েছে, সে বিষয়ে খোদ বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। এ ঘটনায় বন্দর প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনায় তদন্তের জন্য হার্বার অ্যান্ড মেরিন সদস্য কমোডর এম ফজলার রহমানকে আহ্বায়ক করে আট সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। তবে কমিটির প্রতিবেদনের তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর ৪৪ হাজার ৯২৫ টন এলপিজি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে ‘ক্যাপ্টেন নিকোলাস’। জাহাজটির স্থানীয় প্রতিনিধি (লোকাল এজেন্ট) ছিল সিওয়েভ মেরিন সার্ভিস। ১৩ অক্টোবর বিএলপিজি সোফিয়া নামের আরেকটি ট্যাংকারে এলপিজি খালাসের সময় দুই জাহাজেই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে ‘ক্যাপ্টেন নিকোলাস’ সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বিএলপিজি সোফিয়া মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বন্দর সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল (ওএফএসি) ২০২৪ সালের ৯ অক্টোবর জাহাজটিকে নিষেধাজ্ঞা দেয়। অভিযোগ ছিল, জাহাজটি ইরানি জ্বালানি পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত। নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সময় জাহাজটি বাংলাদেশে অবস্থান করছিল।
জাহাজটির তথ্য অনুযায়ী, এটি ১৯৯২ সালে নির্মিত। ২০২২ সাল পর্যন্ত এর নাম ছিল ‘সানি গ্রিন’। পরে নাম পরিবর্তন করে ‘ক্যাপ্টেন নিকোলাস’ রাখা হয় এবং ২০২৫ সালের আগস্টে আবার নাম পরিবর্তন করে ‘আদা’ রাখা হয়।
২০২৪ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশে আসার সময় জাহাজটি যে এলপিজি বহন করছিল, তা ইরানি উৎসের বলে আলোচনা থাকলেও বন্দর কর্তৃপক্ষের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে ২০২৫ সালের ৮ অক্টোবর নিষেধাজ্ঞা জারির পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বার্থিং লিস্টে জাহাজটির নাম থাকলেও বাস্তবে এটি বাংলাদেশে নেই। কবে জাহাজটি দেশ ছেড়েছে, সে বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। স্থানীয় প্রতিনিধি সিওয়েভ মেরিন সার্ভিস জানিয়েছে, তাদের অবগত না করেই জাহাজটি গত ১৫ নভেম্বরের আগেই বাংলাদেশ ত্যাগ করে। বর্তমানে জাহাজটির অবস্থান সম্পর্কেও তারা কিছু জানে না।
বন্দরের একটি সূত্র জানায়, ১৬ নভেম্বরের পর থেকে বঙ্গোপসাগরে জাহাজটির কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি কুতুবদিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘ক্যাপ্টেন নিকোলাস এলপিজি নিয়ে বাংলাদেশে এসেছিল। এলপিজি স্থানান্তরের সময় জাহাজটিতে আগুন লাগে। এরপর আন্তর্জাতিক অ্যাডমিরালটি আদালতে মামলা হয় এবং আদালতের আদেশে জাহাজটি আটক রাখা হয়েছিল। মামলার নিষ্পত্তি হয়েছে। শুনছি, বন্দরকে অবগত না করেই কয়েকদিন আগে জাহাজটি চলে গেছে।’