এলপিজি সংকট
তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) তীব্র সংকটে অচল হয়ে পড়েছে ঠাকুরগাঁওয়ের পরিবহন খাত। জেলার সবগুলো অটোগ্যাস ফিলিং স্টেশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হাজারের বেশি গ্যাসচালিত গাড়ি জ্বালানি সংকটে পড়েছে। কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে—তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না।
জেলা শহরের বিভিন্ন অটোগ্যাস স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, কয়েক দিন ধরে গ্যাস না থাকায় স্টেশনগুলো কার্যত বন্ধ। চালক ও মালিকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্টেশন ঘুরেও জ্বালানি পাচ্ছেন না। ফলে বিকল্প হিসেবে পেট্রোল ও অকটেন ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা, যার খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় দ্বিগুণ। অতিরিক্ত ব্যয় ভাড়ায় প্রতিফলিত হওয়ায় সাধারণ যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়েছেন।
গাড়িচালক আলমগীর বলেন, “পাঁচ দিন ধরে কোথাও এলপিজি পাচ্ছি না। পেট্রোল দিয়ে গাড়ি চালাতে হচ্ছে—যা দিয়ে খরচ দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। দ্রুত সমাধান না হলে আমরা বড় সমস্যায় পড়ব।
আরেক চালক শাকিল জানান, বর্ধিত ভাড়া গ্রাহকদের গ্রহণযোগ্য নয়। তাই কাজ কমে গেছে। অনেকেই ভাড়া শুনেই গাড়ি না নিয়ে চলে যাচ্ছেন।
শুধু পরিবহন খাত নয়, সংকট ছড়িয়ে পড়েছে রান্নার গ্যাসের বাজারেও। শহরের খুচরা দোকানে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও পাওয়া গেলেও দাম চড়া। বাধ্য হয়ে অনেকে বৈদ্যুতিক চুলার দিকে ঝুঁকছেন।
হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা রকি আজম জানান, একটি প্রাইভেট কার ২ হাজার টাকায় পাওয়া যেত, এখন চাইছে সাড়ে ৩ হাজার। হঠাৎ এভাবে ভাড়া বেড়ে যাওয়া সাধারণ মানুষের জন্য কষ্টকর।
গ্যাস স্টেশন মালিকরাও বলছেন, তারা নিয়মিত চাহিদা পাঠালেও গ্যাস পাচ্ছেন না।
উত্তর বাংলা কনভারসন অ্যান্ড এলপিজি ফিলিং স্টেশনের পরিচালক তাসনিমুল হাসান তাকি জানান, ছয় দিন ধরে আমাদের স্টেশনে গ্যাস নেই। প্রতিদিন শতাধিক গাড়ি ফিরে যাচ্ছে। কবে সমস্যা সমাধান হবে—বলতেও পারছি না।
এদিকে রান্নার সিলিন্ডারও এখন বিলাস দ্রব্যের মতো হয়ে গেছে বলে জানান শহরের বাসিন্দারা। নিমবাড়ি এলাকার বিশাল বলেন, সিলিন্ডারের দাম এখন ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। তাই আজ ইলেকট্রিক চুলা কিনেছি।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ঠাকুরগাঁও জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হাসান বলেন, ‘গৃহস্থালির ব্যয় ও পরিবহন খরচ—উভয় ক্ষেত্রেই এলপিজি সংকটের চাপ পড়েছে। বিষয়টি সরকারের দরকারি গুরুত্ব পাচ্ছে না। দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ প্রয়োজন।’
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে জেলার পরিবহন ব্যয়, সেবা খাত ও বাজারদরের ওপর এর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে।