‘অনেকেই বলে আপনি তো আওয়ামী লীগ করতেন, এখন বিএনপিতে কেন? আমি ময়রার মাঠে মুশা মিয়ার হাত ধরে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলাম। এখন তো আওয়ামী লীগের কেউ নাই। মুজিব কোট আমার ঘরে আছে, আয়রন করে তুলে রেখেছি। কাল যদি আওয়ামী লীগ আসে, তাহলে আবার আওয়ামী লীগে যাব। কিন্তু এখন তো আওয়ামী লীগ নেই। ভোট তো এক জায়গায় দিতেই হবে, ঘরে বসে থাকলে চলবে না। তাই এবার ধানের শীষেই ভোট দেব।’
এভাবেই প্রকাশ্যে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে আলোচনার ঝড় তুলেছেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রুপাপাত ইউনিয়নের কদমী গ্রামের বাসিন্দা আওয়ামী লীগ নেতা কাজী আতিয়ার রহমান রবি।
গত শুক্রবার রাতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত এক দোয়া মাহফিলে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
একজন প্রকাশ্য আওয়ামী লীগ নেতার মুখে এমন বক্তব্য স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। তার বক্তব্যের ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সহ-কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, ‘মঞ্চে ওপেন এমন কথা বলা তার উচিত হয়নি। তারপরও তিনি কেন এমন বক্তব্য দিয়েছেন, সেটা আমরা বুঝতে পারছি না। কাজী আতিউর রহমান রবি রুপাপাত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনবার চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তবে অল্প ব্যবধানে পরাজিত হন। তার এ বক্তব্যে আমরা বিব্রত।’
কাজী আতিউর রহমান রবির সভাপতিত্বে এবং উপজেলা বিএনপির সহ-কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমানের সঞ্চালনায় আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন-উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসিবুজ্জামান শাহিন, যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহুর ইকবাল পিন্টু ঠাকুর, জেসমিন খান, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ মৌসুমী, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক বুরহান উদ্দিন খান সৈকত, বিএনপি নেতা মিন্টু মিয়াসহ আরও অনেকে।