নিবার্চনি হালচাল (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫)
আয়তনের দিক দিয়ে জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ নবীনগর আসনের ভোটের প্রতিযোগিতাও দিন দিন উত্তপ্ত হচ্ছে। ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে লড়াই করছে জামায়াত জোট। এদিকে, দলীয় কোন্দলের কারণে ভোট ভাগাভাগির আশঙ্কায় বিএনপি- বলছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
২১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৮২৬ জন। আসনটি থেকে ১১ জন মনোনয়নপত্র জমা দিলেও যাচাই শেষে একজনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে অধিকাংশ আসনের মতো এখানেও বিএনপির মধ্যে দেখা দিয়েছে দলীয় কোন্দল। বিএনপি প্রার্থী হিসেবে মনোনীত মো. আব্দুল মান্নানের মনোনয়নে একদল নেতাকর্মী অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা মানববন্ধনের মাধ্যমে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিও তোলেন। ফলে, আসনটিতে ভোট ভাগাভাগির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আসনটিতে বর্তমান নির্বাচনি দৌঁড়ে সবচেয়ে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে রয়েছেন সাবেক চারবারের সংসদ সদস্য কাজী মো. আনোয়ার হোসেনের ছেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী নাজমুল হোসেন তাপস। তিনি বৃহত্তর নবীনগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে ঘুরে ভোটারদের কাছে দোয়া ও ভোট চাইছেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও প্রচারণা চালাচ্ছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী নাজমুল হোসেন তাপস বলেন, ‘আমি আপনাদের ভাই, আপনাদের সন্তান, আপনাদের সহযোদ্ধা। ২০১৮ সালের নির্বাচনে যেভাবে নানা প্রতিকূলতার মাঝেও এলাকার জনগণ আমার পাশে ছিল, এবারও থাকবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্বে এবারের নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। আপনারা সবাই যদি আমার জন্য দোয়া করেন এবং আল্লাহ যদি আমার নসিবে লিখে রাখেন, ইনশাআল্লাহ আমি নির্বাচনে জয়ী হব।’
অপরদিকে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থীও চালিয়ে যাচ্ছেন প্রচার-প্রচারণা। বিভিন্ন মিলাদ-মাহফিল ও বাজারে বাজারে গিয়ে ভোটারদের কাছে দোয়া চাইছেন। নতুন কৌশলেও ভোটার আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন তিনি।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ‘নবীনগরকে নিয়ে আমার একটি ভিশন আছে। আমি নবীনগরকে সন্ত্রাসমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত ও বালু সিন্ডিকেটমুক্ত করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি নবীনগরের ২১টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে ঘুরে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি। সবাই ধানের শীষে ভোট দিতে আগ্রহী। আশা করছি আগামী নির্বাচনে ধানের শীষ বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে।’
নানা জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আসনটি থেকে জামায়াত জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ মনোনীত মুফতি আমজাদ হোসাইন আশরাফী। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ১১ দলীয় জোটে না থাকায় তাদের মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম নজু ‘হাতপাখা’ প্রতীকে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। ফলে, আসনটিতে ভোটের লড়াই আরও জমে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জামায়াত জোটের মনোনীত প্রার্থী মুফতি আমজাদ হোসাইন আশরাফী বলেন, ‘‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের জনগণের সেবা করার সুযোগ দেওয়ায় ১১ দলীয় জোটের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতির বাইরে গিয়ে সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে কাজ করতে চাই। ইনশাআল্লাহ, জোটবদ্ধ শক্তির মাধ্যমে আমরা আগামী নির্বাচনে জয়ী হয়ে জনগণের অধিকার পুনরুদ্ধার করব।
আমার বিশ্বাস, নবীনগর উপজেলার সর্বস্তরের আলেম-উলামা ও ছাত্র-জনতা ‘রিকশা’ মার্কার বিজয় নিশ্চিত করতে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমার পাশে থাকবেন।”
রাজনৈতিকবোদ্ধাদের মতে, আসনে বর্তমানে বিভিন্ন দল ও জোট ভিন্ন ভিন্ন কৌশল নিয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছে। ভোটারদের প্রতিক্রিয়া যাচাইয়ের পাশাপাশি গণসংযোগ ও প্রচারণা কার্যক্রমও ত্বরান্বিত হয়েছে।