ঢাকা-১
ঢাকা–১ (দোহার–নবাবগঞ্জ) সংসদীয় আসনের প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগে অনিয়ম ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ঢাকা জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন এই আসনের জামায়াতের প্রার্থী ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম। মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) ঢাকা জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তাকে ইমেইলযোগে এ লিখিত অভিযোগ জানান তিনি।
লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২, নির্বাচন কমিশনের বিধিমালা এবং সংবিধানের ১১৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আইনগত দায়িত্ব। কিন্তু, বাস্তবে দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায় প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে সেই আইনি কাঠামো উপেক্ষা করা হচ্ছে।
অভিযোগে বলা হয়, রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ ও পেশাগতভাবে যোগ্য একাধিক স্কুল, কলেজ ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষককে ইচ্ছাকৃতভাবে প্রিজাইডিং বা সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, পূর্ববর্তী নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী এবং প্রকাশ্যভাবে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের সমর্থক হিসেবে পরিচিত কয়েকজন শিক্ষককে পুনরায় প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আরও অভিযোগ করা হয়, আগের নির্বাচনে নিরপেক্ষতা ও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনকারী কিছু প্রিজাইডিং কর্মকর্তাকে কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়াই এবারের নির্বাচনে সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে অবনমিত করা হয়েছে। ব্যারিস্টার নজরুল ইসলামের দাবি, এটি প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং স্পষ্ট বৈষম্যমূলক আচরণ।
লিখিত আবেদনে তিনি বলেন, এ ধরনের অনিয়ম নির্বাচন ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করে এবং ভোটারদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার বাস্তবায়নকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়।
তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার প্রতি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার আলোকে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও আইনসম্মত পদ্ধতিতে প্রিজাইডিং ও সহকারী প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও পুনর্বিন্যাসের জন্য অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে অনুরোধ জানান। অন্যথায় বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের উচ্চপর্যায়সহ সংশ্লিষ্ট আইনগত ফোরামে উপস্থাপন করা হবে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।